পনি যদি সামান্য একটুও গিক টাইপের হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই জানেন যে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্সের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আপনার কম্পিউটারে চলা লিনাক্স সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম থেকে আলাদা, আপনি কম্পিউটারের লিনাক্স অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড্রয়েডে চালাতে পারবেন না, কিংবা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন কম্পিউটার লিনাক্স সিস্টেমে চালাতে পারবেন না, কিন্তু কেন? চলুন, এর বিস্তারিত উত্তর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা যাক…

লিনাক্স কার্নেল

সর্ব প্রথম আমাদের লিনাক্স সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজনীয়। দেখুন, বেশিরভাগ মানুষ লিনাক্সকে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে, তারা বলে তাদের পিসিতে লিনাক্স ইন্সটল করেছে। কিন্তু পিসিতে লিনাক্স ইন্সটল করা মানে হচ্ছে, লিনাক্সের কোন একটি ডিস্ট্রকে ইন্সটল করা। লিনাক্স কোন অপারেটিং সিস্টেম নয়, এটি একটি কার্নেল, আর প্রত্যেকটি অপারেটিং সিস্টেম চলার জন্য কার্নেল প্রয়োজনীয়। কার্নেল মূলত সিস্টেম সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার গুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে দিতে সাহায্য করে থাকে। অর্থাৎ লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেমের কোর হচ্ছে লিনাক্স।
পিসিতে যে লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোকে রান করানো হয়, সেখানে শুধু লিনাক্স কার্নেলই থাকে না, বরং লিনাক্সের আরো কিছু স্পেশাল সফটওয়্যার যুক্ত করা থাকে। সেখানে লিনাক্স সফটওয়্যার গুলো রান করার জন্য নিজস্ব পরিবেশ থাকে এবং এক্স গ্রাফিক্যাল সার্ভার থাকে। উবুন্টু, মিন্ট, ডেবিয়ান, ফেডোরা, ইত্যাদি সহ আরো অন্যান্য লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোতে লিনাক্স কার্নেল ব্যতিতও আলাদা সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে। যেমন জিনোম (GNOME) ডেক্সটপ ইনভারমেন্ট ইন্সটল থাকার জন্য বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রতে ডেক্সটপ ইন্টারফেস দেখতে পাওয়া যায়। ধরুন আপনি সার্ভার উপযোগী লিনাক্স ডিস্ট্র আপনার সিস্টেমে ইন্সটল করেছেন, তো সেখানে ডেক্সটপ ইন্টারফেস থাকবে না, কেনোনা সার্ভারে কম্যান্ড ব্যবহার করে কাজ করানো হয়, এখন আপনি যদি এতে ডেক্সটপ পেতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে ডেক্সটপ ইন্টারফেস ইন্সটল করতে হবে।
এমনি ভাবে, অ্যান্ড্রয়েড শুধু মাত্র লিনাক্স কার্নেলের উপর তৈরি, কিন্তু এতে লিনাক্সের সফটওয়্যার রান করানোর জন্য আলাদা লিনাক্স সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করা থাকে না। গুগল তাদের অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল হিসেবে লিনাক্স ব্যবহার করে, কেনোনা লিনাক্স ওপেন সোর্স, অর্থাৎ একে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে কাস্টম করা যাবে। গুগল তাদের অ্যান্ড্রয়েডকে নিজের মতো করে কাস্টম করে নেয়। আর লিনাক্স কার্নেল ব্যবহার করার ফলে তাদের নিজে থেকে আর কোন কার্নেল তৈরি করার দরকার হয়না। তাছাড়া অ্যান্ড্রয়েড তো শুধু গুগল একা ব্যবহার করে না, অনেক কোম্পানি তাদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করে, এবং তারা সেখানে তাদের নিজস্ব কিছু ফিচার যোগ করতে চায়। যেহেতু লিনাক্স ওপেন সোর্স, তাই তারা নিজের ইচ্ছা অনুসারে কাস্টম করে থাকে।

অ্যান্ড্রয়েড বনাম লিনাক্স

এখন অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্সের উপর তৈরি হলেও এটি লিনাক্সের আলাদা ডিস্ট্র গুলো মতো নয়। আগেই আলোচনা করেছি, ডেক্সটপ ডিস্ট্র গুলোতে আরো বিভিন্ন প্রকারের সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে তা থাকে না। যখন অ্যান্ড্রয়েড বুট হয়, তখন সেটা লিনাক্স আকারেই বুট হয়, কিন্তু বুট হওয়ার পরে অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব একটি ভার্চুয়াল মেশিন রান হয়, যেটা জাভা দ্বারা তৈরি করা সফটওয়্যার গুলোকে রান করতে সক্ষম। মানে, আপনি একভাবে বলতে পারেন, অ্যান্ড্রয়েড হলো লিনাক্সের উপর রান হওয়া একটি ভার্চুয়াল মেশিন।
বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করার জন্য চলুন একটি উদাহরণ নেওয়া যাক, মনে করুন, আপনার কম্পিউটারটি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত। অর্থাৎ আপনার সিস্টেমে অবশ্যই উইন্ডোজ যেকোনো সফটওয়্যার রান করানো সম্ভব। কিন্তু এবার মনে করুন আপনি আপনার কম্পিউটারে একটি ভার্চুয়াল মেশিন সফটওয়্যার ইন্সটল করলেন এবং ভার্চুয়াল মেশিনের মধ্যে উবুন্টু ইন্সটল করলেন। এখন ভাল করে সম্পূর্ণ বিষয়টি ভেবে দেখুন, আপনার ভার্চুয়াল মেশিনটি কিন্তু উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের উপর রান করছে, কিন্তু মেশিনের ভেতর ইন্সটল থাকা উবুন্টুতে আপনি উইন্ডোজ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন না, আবার সেখানের লিনাক্স সফটওয়্যার গুলোকেও আপনি উইন্ডোজে ব্যবহার করতে পারবেন না। ভার্চুয়াল মেশিন সম্পূর্ণ আলাদা পরিবেশ তৈরি করে এবং নিজেই একটি স্বাধীন কম্পিউটারের ন্যায় আচরন করে। ঠিক এইভাবেই, অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্সের উপর তৈরি হয়েও ডেক্সটপ লিনাক্স সফটওয়্যার গুলো সমর্থন করে না।
আবার লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোও অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার গুলোকে সমর্থন করে না। কেনোনা লিনাক্স ডিস্ট্র গুলো লিনাক্স সফটওয়্যার রান করানোর জন্য তৈরি করা হয়, এবং এতে কোন ভার্চুয়াল মেশিন ইন্সটল করা থাকে না, যেটা জাভা অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে রান করাতে পারে। তবে অ্যান্ড্রয়েড এবং লিনাক্সের আলাদা ডিস্ট্র গুলোর মধ্যে একটি জিনিষ কমন, তা হলো এটি টার্মিন্যাল সমর্থন করে। অর্থাৎ অ্যান্ড্রয়েডকে আপনি বিভিন্ন লিনাক্স কম্যান্ড প্রদান করাতে পারবেন। কিন্তু বেশিরভাগ লিনাক্স কম্যান্ড রান করানোর জন্য অ্যান্ড্রয়েডটি রুটেড থাকা প্রয়োজনীয় নয়, কেনোনা টার্মিন্যাল ঠিকঠাক মতো চলার জন্য রুট পারমিশন ডিম্যান্ড করে।
লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোতে যদি অ্যান্ড্রয়েড ভার্চুয়াল মেশিন ইন্সটল করা যায়, তবে সহজেই লিনাক্স কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার গুলোকে ইন্সটল করা এবং রান করানো সম্ভব হবে। যেমনটা আপনারা উইন্ডোজ কম্পিউটারে দেখে থাকবেন, ব্লুস্টাকস নামের একটি প্রোগ্রাম, যেটা ভার্চুয়াল মেশিনের উপর রান হয়ে আপনার পিসিতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন চলাতে সাহায্য করিয়ে থাকে। গুগলের ক্রোম ওএস ও কিন্তু লিনাক্সের উপর তৈরি, কিন্তু এতেও এক্স সার্ভার থাকে না, ফলে এতে লিনাক্সের সফটওয়্যার গুলো রান করানো সম্ভব নয়। অ্যান্ড্রয়েডের মতো ক্রোম ওএস ও লিনাক্সের অন্যান্য ডিস্ট্র গুলোর অনেক কাছাকাছি, সেখানে কিছু উন্নতি করন করলে লিনাক্স সফটওয়্যার গুলোকে রান করানো সম্ভব হবে। অপরদিকে উবুন্টু মোবাইল ওএস একেবারেই লিনাক্সের মতো, এখানে আপনি মোবাইলে ডেক্সটপ লিনাক্স ব্যবহার করার মতো ফিচার গুলো পাবেন।

শেষ কথা

আশা করছি, এই আর্টিকেলটি পড়ার পরে অবশ্যই আপনার মনের সকল প্রশ্ন গুলোর পরিষ্কার উত্তর পেয়ে গিয়েছেন, কেন অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্স এর উপর কাজ করার পরেও এটি লিনাক্স থেকে আলাদা। লিনাক্সের ডেক্সটপ ডিস্ট্র এবং অ্যান্ড্রয়েড, দুই ব্যাপার দুইভাবে তৈরি করা হয়েছে, কেনোনা এদের ব্যবহার আলাদা আলাদা। তবে আপনি চাইলে আপনার কম্পিউটারে অনেক সহজেই অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার রান করাতে পারেন, ঠিক অ্যান্ড্রয়েডেও ভার্চুয়াল মেশিন ইন্সটল করে যেকোনো পিসি সফটওয়্যার রান করানো সম্ভব। আমি নেক্সট কোন এক আর্টিকেলে বর্ণনা করবো, কিভাবে লিনাক্স কার্নেলের উপর আপনি নিজের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করবেন।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে আমরা আমাদের ব্রেইনকে বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে তুলনা করে আসছি—আগে ঘড়ি, টেলিফোন, ক্যালকুলেটর এবং বর্তমানে কম্পিউটারের সাথে মানুষের ব্রেইনকে তুলনা করা হয়। যদিও আমাদের ব্রেইন আমাদের বানানো সকল প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে কাজ করে। আমরা মানুষেরা অনেক অসাধাদ্ধ সাধন করতে সক্ষম হয়েছি এবং বর্তমানে নিউরাল নেটওয়ার্ক এর মতো প্রযুক্তির পেছনে ছুটছি আর ভবিষ্যতে পৌঁছে যাবো মহাকাশের আরো গভীরে।


কিন্তু আমাদের রয়েছে একটিই সীমাবদ্ধতা, বলতে পারেন সকল প্রাণীকূলের একটিই ফ্যাক্ট—”প্রত্যেকটি জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হয়”। অর্থাৎ আমরা মরে যাই, আর আমরা মৃত্যুকে আটকাতে সক্ষম নয়। মৃত্যুকে ঠেকানোর কথা বাদ দিয়ে চলুন বিষয়টিকে আরেকভাবে ভাবা যাক। আচ্ছা বলুন তো কেমন হয়, যদি আপনার ব্রেইনের সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করা যায় এবং সেটিকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত করা যায় এবং পরে এই সমস্থ ডাটা কোন আর্টিফিশিয়াল বডিতে প্রবেশ করানো যায়? হ্যাঁ প্রসেসটা অনেকটা এই রকম “কোন কম্পিউটারে কোন পেনড্রাইভ থেকে সমস্থ ডাটা কপি করে রাখলেন এবং পরে প্রয়োজন অনুসারে সেই ডাটা গুলোকে সংরক্ষন বা অন্য কোন মিডিয়াতে ডাউনলোড করে দিলেন”। তবে মানুষের চেতনা কি কম্পিউটারে আপলোড করা সম্ভব? জি হ্যাঁ, এমনি কিছু ক্রেজি ধারণা নিয়ে মাইন্ড আপলোডিং (Mind Uploaing) প্রযুক্তির উপর কাজ করা হচ্ছে। এমনকি স্যার স্টিফেন হকিং এর মতে ২০৪৫ সালের মধ্যেই আমরা এই প্রযুক্তি ব্যস্তবে দেখবে পাবো। তো চলুন অসাধারণ এই প্রযুক্তির সম্পর্কে সমস্থ কিছু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

মাইন্ড আপলোডিং | অমরত্ব

চিরকাল বেঁচে থাকা—মূলত এটিই এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য, তাই এই প্রযুক্তিকে অমরত্ব প্রযুক্তিও (Immortality Technology) বলা হয়।আমাদের দেহে কোটি প্রকারের কোষ রয়েছে। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই কোষ গুলো ধীরেধীরে নিজে নিজেই রিপেয়ার হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ফলে আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা আর আগের মতো থাকে না এবং বিভিন্ন রোগ ব্যাধি শরীরে বাসা বেঁধে নেয় এবং ধীরেধীরে আমরা মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হই। এখন মৃত্যুকে এড়াতে প্রয়োজন আর্টিফিশিয়াল কোষ (যে কোষ কখনোই বৃদ্ধ হবে না) তৈরি করা এবং আমাদের আসল কোষ পরিবর্তন করে আর্টিফিশিয়াল কোষ শরীরে প্ল্যান্ট করা—যেটা আরো জটিল প্রযুক্তি।
তবে বিজ্ঞানীরা অমরত্ব লাভ করার আরেক মাধ্যম খুঁজে নিয়েছে, তা হলো আমাদের ব্রেইনের রহস্য ভেদ করে সমস্ত ব্রেইনের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করে কম্পিউটারে আপলোড করে রাখা এবং কোন বডিতে সেই ব্রেইন ডাটা ডাউনলোড করে দেওয়া। সায়েন্স অনুসারে আমরা প্রত্যেকটি প্রাণী আমাদের মস্তিস্কেই বেঁচে থাকি। আমাদের অনুভূতি, বুদ্ধিমত্তা, মন, চেতনা ইত্যাদি সবকিছুই আমাদের মস্তিষ্কেই বাসা বেঁধে থাকে। সুতরাং যদি কোনভাবে কারো মস্তিষ্ক কপি করে নেওয়া সম্ভব হয় (যদিও এটা শুনতে উদ্ভট লাগে) তবে সে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে—কেনোনা এতে তার চালচলন, বুদ্ধি, অনুভূতি সবই সংরক্ষিত থাকবে, যেমনটা একটি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ ক্লোন করে আরেকটি সম্পূর্ণ আলাদা ফিজিক্যাল কম্পিউটারে লাগানোর পরেও মনে হয় আপনি একই কম্পিউটার ব্যবহার করছেন।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানিদের উদ্দেশ্য হলো অন্যকারো পারসোনালিটিকে একটি সম্পূর্ণ আলাদা বডিতে প্রবেশ করিয়ে তার ক্লোন হিসেবে তাকে বাচিয়ে রাখা—যে কিনা সম্পূর্ণ আগের ব্যক্তির হুবহু ভার্সনে কাজ করবে। কিন্তু বিরাট প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের ব্রেইনকে কি আমরা কম্পিউটারে আপলোড করতে পারবো, মানে মাইন্ড আপলোডিং বা মানুষের চেতনাকে ডিজিটাইজ করা কতটুকু সম্ভব? এই সমস্থ বিষয়টি সায়েন্স ফিকশন বা কোন হলিউড মুভির মতো মনে হলেও বর্তমানে এই প্রযুক্তিকে সফল করার লক্ষ্যে ২০৪৫ ইনিশিয়েটিভ নামে একটি প্রোজেক্ট চলছে এবং বিজ্ঞানীরা মনে করেন ২০৪৫ সালের মধ্যেই আমরা সফলভাবে অমরত্ব প্রযুক্তি হাসিল করে নেব। কিন্তু সর্বপ্রথম আমাদের কি করতে হবে? আমাদের সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের ব্যাকআপ তৈরি করতে হবে! কিন্তু কীভাবে বা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটি সম্ভব হবে? কেনোনা কম্পিউটার এবং আমাদের ব্রেইন সম্পূর্ণ আলাদা সিস্টেমে কাজ করে। তাহলে কীভাবে সম্ভব?

মানুষের মস্তিষ্ক এবং চেতনা

মানুষের মস্তিষ্ক এবং এর কাজ করার ধরন সত্যিই এই দুনিয়ার মধ্যে অত্যন্ত আশ্চর্যকর জিনিষ গুলোর মধ্যে একটি। আমাদের মাথায় কোন ইউএসবি পোর্ট নেই যে, এতে আপনি ক্যাবল লাগাবেন এবং সকল ডাটা কম্পিউটারে ট্র্যান্সফার করে নেবেন। আবার আপনার মস্তিষ্ক এবং কম্পিউটারের কাজ করার সিস্টেম সম্পূর্ণ আলাদা। আপনার মস্তিষ্ক অবশ্যই ডিজিটাল ফরম্যাটে কাজ করে না, তাই মস্তিস্কর সকল তথ্য কম্পিউটারের কাছে মিনিং লেস। তখনই কেবল কোন ডাটা কম্পিউটারে সংরক্ষিত রাখা সম্ভব যখন সেটিকে ডিজিটাইজ করা হবে। কিন্তু মস্তিষ্ককে কীভাবে ডিজিটাইজ করা সম্ভব? এটি কোন সার্কিট বা ইলেক্ট্রনিক চিপ নয়—বরং এতে রয়েছে অনুভূতি, চেতনা ইত্যাদি আর এই সমস্ত কিছু একত্রে জীবন্ত এবং গরম ব্যায়োলজিক্যাল একটি অঙ্গে বদ্ধ রয়েছে, যা আমাদের মাথার ঘিলু নামে পরিচিত।
আপনার দেহে মস্তিষ্ক এমন একটি উপাদান যা আপনার মানুষ হওয়ার অস্তিত্বকে বহন করছে এবং আপনাকে প্রতিনিয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছে আপনি মানুষ এবং আপনি কি কি করতে পারেন। মানুষের মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়নের (তবে ৫০ বিলিয়ন থেকে ৫০০ বিলিয়ন পর্যন্ত থাকতে পারে) মতো অতিক্ষুদ্র কোষ থাকে—যাকে নিউরন বলা হয় এবং প্রত্যেকটি নিউরন একে অপরের সাথে কানেক্টেড রয়েছে। এই নিউরন গুলোর প্যাটার্ন এবং একে অপরের সাথে কানেক্টেড থাকার সিস্টেমের উপর নির্ভর করে আপনার কোন তথ্যকে প্রসেস করা। এই পদ্ধতির উপর আপনার মেধা, চেতনা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি সবকিছুই নির্ভর করে। কোন তথ্য প্রসেস হওয়ার সময় সেটি বিভিন্ন নিউরন হয়ে অতিক্রান্ত করে এবং আপনাকে একটি শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে—ঠিক যেভাবে নিউরাল নেটওয়ার্কে কাজ করানো হয়।

মাইন্ড আপলোডিং কীভাবে কাজ করে?

আগেই বলেছি, আমাদের মস্তিষ্ক অনেক কমপ্লেক্স একটি জিনিষ এবং এর চাইতেও কমপ্লেক্স ব্যাপার হলো আমাদের ইমোশন। মানুষের ইমোশন কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিটেক্ট করা এতোটা সহজ ব্যাপার নয়। যদিও বর্তমানে বিভিন্নভাবে মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যান করা এবং কম্পিউটারকে বোঝানোর অনেক প্রযুক্তি রয়েছে। একটি প্রযুক্তিতে মানুষের মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের ধারার উপর নির্ভর করে একটি থ্রিডি ইমেজ তৈরি করা হয় এবং একটি কম্পিউটারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে যে, সে এই থ্রিডি ইমেজ থেকে ডিটেক্ট করতে পারে যে মানুষটি এই মুহূর্তে ঠিক কোন জিনিসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মস্তিষ্কটি কি অনুভব করছে এটি ডিটেক্ট করা এতোটা সহজ কাজ নয়।

যাই হোক, কোন মস্তিষ্ক ডিজিটাইজ বা কপি করার জন্য প্রয়োজন পড়বে মস্তিষ্কটির সম্পূর্ণ ম্যাপ, যেটিকে ব্রেইন ম্যাপ বলতে পারেন। যেখানে বর্ণিত থাকবে প্রত্যেকটি নিউরন একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্ক যুক্ত রয়েছে এবং কীভাবে কাজ করছে বা একে অপরের সাথে সিগন্যাল আদান প্রদান করছে। কিন্তু এখানে ভুলে গেলে চলবে না যে আমাদের মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়নের মতো নিউরন রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এবং তাত্ত্বিকভাবে দেখতে গেলে মানুষের ব্রেইন ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা কেঁচোর ব্রেইন ম্যাপ থেকে রোবট বানাতে সক্ষম হয়েছে। তারা কেঁচোর ব্রেইনের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করে কম্পিউটারে আপলোড করে সেই ডাটাকে রোবটে ডাউনলোড করে দিয়েছে, ফলে একটি রোবট সম্পূর্ণ কেঁচোর ব্রেইনে কাজ করছে। মস্তিষ্ক ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যালের উপর কাজ করে আর এই সিগন্যাল গুলোকে একত্রিত করে ডিজিটাল ফরম্যাটে পরিণত করা সম্ভব—যাতে মাইন্ড আপলোডিং বা মস্তিষ্ককে কম্পিউটারে আপলোড করা যায়। কেঁচোর মস্তিষ্কে ৩০২টি নিউরন থাকে এবং প্রত্যেকের মধ্যে ৭,০০০ নিউরন ইন্টারকানেকশন থাকে। বিজ্ঞানীরা এই নিউরন গুলোর একটি নিখুদ মডেল তৈরি করে এবং এর নিউরাল নেটওয়ার্ক গঠনের উপর ভিত্তি করে একটি রোবট বানাতে সক্ষম হন। “the Lego worm robot” লিখে গুগল করলে এই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তাত্ত্বিকভাবে, এই একই প্রসেস ব্যবহার করে মানুষের মস্তিষ্কও ম্যাপ করা এবং সেখান থেকে ডাটা ডিজিটাইজ করে কম্পিউটারে আপলোড করা সম্ভব। কিন্তু মানুষের মস্তিকের ক্ষেত্রে আরো অধিক আঁকার নিয়ে কাজ করতে হবে—১০০ বিলিয়ন নিউরন এবং এদের মধ্যেকার ১০০ ট্রিলিয়ন কানেকশন। তবে এতো সুবিশাল পরিমান নিয়ে কাজ করাটা সত্যিই অনেক কমপ্লেক্স।
একবার ব্রেইন ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব হয়ে গেলে প্রয়োজন পড়বে আরেকটি হুবহু আর্টিফিশিয়াল ব্রেইন তৈরি করার। যেখানে ১০০ বিলিয়ন আর্টিফিশিয়াল নিউরন তৈরি করতে হবে এবং এক একটির সাথে কোটির কানেকশন নিশ্চিত করতে হবে। তারপরে আমাদের জানতে হবে যে, কীভাবে মস্তিষ্কে নতুন স্মৃতি রাইট হয় এবং কিভাবে কোন মেমোরিকে ইরেজ বা ডিলিট করা যেতে পারে। এর পরে আমরা মস্তিষ্কে ফলস (False) মেমোরি রাইট করতে পারবো।
তো এখন ধরুন আমরা মস্তিষ্ক রীড এবং রাইট করার ক্ষমতা পেয়ে গেলাম, তাহলে নেক্সট স্টেপ কি হবে? এখন কাজ হলো জাস্ট একটি ব্রেইন থেকে আরেকটি ব্রেইনে সমস্ত ডাটা গুলোকে কপি করা। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক বা যেকোনো মস্তিষ্ক আর কম্পিউটার হার্ডড্রাইভ এক জিনিষ নয়। বিজ্ঞানিদের মতে আমাদের মস্তিকের সমস্ত মেমোরি প্রায় ২.৬ মিলিয়ন গিগাবাইটের সমান। এতো বিশাল পরিমানের ডাটা ট্র্যান্সফার করাও এক বিশাল মাথা ব্যাথা। ইউএসবি ৩.০ কানেকশনে এই পরিমান ডাটা কপি হতে লাগাতার ৮০ দিনের উপর প্রয়োজন এবং থান্ডারবোল্ড ৩ কানেকশনে সপ্তাহর উপর সময় লেগে যাবে। আবার শুধু ডাটা প্ল্যান্ট করে দিলেই হবে না, মস্তিষ্কের প্রপার ম্যাপ লাগবে, যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি নিউরন দ্বারা সেই ডাটা গুলোকে প্রসেস করা সম্ভব হয়।

সুবিধা

এতক্ষণে নিশ্চয় আন্দাজ করতে পেড়েছেন যে এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে এবং আমরা এই প্রযুক্তি থেকে আর কতটা দূরে। এবার চলুন ভেবে দেখা যাক সেই দুনিয়ার কথা বা ২০৫০ সালের কথা যেখানে আমাদের কাছে মাইন্ড আপলোডিং প্রযুক্তি বা ইমর্টালিটি প্রযুক্তি ব্যাস্তবে থাকবে। এথেকে আমরা কি সুবিধা গুলো পাবো? এই প্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করা যতোটা ক্রেজি এই প্রযুক্তি ব্যস্তবে আসার পরে কি কি হতে পারে সেটা কল্পনা করা আরো দ্বিগুণ ক্রেজি। একে তো আপনার পারসোনালিটি কখনোই মরবে না, অর্থাৎ আপনার ব্যায়োলজিক্যাল বডি মরে গেলেও আপনার আর্টিফিশিয়াল বডি বেঁচে থাকবে অমর হয়ে। সেখানে হুবহু আপনার ফিলিংস থাকবে, আপনার বুদ্ধিমত্তা থাকবে এবং আপনার সকল চেতনা থাকবে। হাজার বছরের পরের সভ্যতাকেও আপনি দেখতে পারবেন। হতে পারে অন্য মস্তিষ্ক থেকে ডাটা কপি করে আপনার ইন্টেলিজেন্স লেভেলকে আরো বাড়ানো যেতে পারে। আপনার মস্তিস্ক থেকে সকল অস্থিরতা দূর করে আপনাকে হ্যাপি লাইফ প্রদান করা যেতে পারে। এতো শুধু শুরুর দিকের কল্পনা, পৃথিবীর উপর যখন এর প্রভাব নিয়ে ভাববেন সেটা এক অফুরন্ত কল্পনা হবে যেটা এই ছোট আর্টিকেলে বর্ণনা করা সম্ভব হবে না।

শেষ কথা

মাইন্ড আপলোডিং প্রযুক্তির উপর অনেক ইউনিভার্সিটি, অনেক বিজ্ঞানী, দেশের সরকার ইত্যাদি কাজ করছে এবং অলরেডি এই প্রজেক্টের উপর কোটি ডলার খরচ হয়ে গেছে। বিজ্ঞানিদের আশানুরূপ ফল পাওয়া গেলে সৌভাগ্যবশত আপনি আমি বেঁচে থাকতেই এই প্রযুক্তি দেখতে পাব। তো আপনার কি মনে হয়, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তিকে ব্যস্তব রুপ প্রদান করা সম্ভব হবে? আপনি যদি অমর হোন তো কি করবেন? আজকের এই ক্রেজি আর্টিকেলের উপর আপনাদের সকলের ক্রেজি সব টিউমেন্ট কামনা করছি। নিচের টিউমেন্ট সেকশনে যান এবং এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের সকলের সাথে বর্ণিত করুন।

————————–— بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ————————–—
সুপ্রিয় কমিউনিটি, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল নিয়ে আমার আজকের টিউন।সামাজিক যোগাযোগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্লাটফর্ম ফেসবুক বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও মুলত ২০০৬ সালের পর থেকে ফেসবুক এক বিশাল কমিউনিটির রূপ নেয়।
ফেসবুককে আমার কাছে ছোটবেলায় খেলা নোকিয়া ফোনের স্ন্যাক গেইমটার মতো মনে হয়। কারন এটি একের পর এক মানুষদের সংযুক্ত করছে আর আকারে বড় হচ্ছে। বর্তমান সময়ে এটা এমন এক অবস্থায় দাড়িয়েছে যে, কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলে তাকে এলিয়েনদের কাতারে ফেলা হয়। কারন হিসাবে একটি উদাহরণ দিচ্ছি, কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম এক ভাইয়া তার নবজাতকের জন্য একটি আইডি খুলে ফেলেছে। তার সন্তান যখন বড় হবে তখন নাকি সে এই আইডি ব্যবহার করবে। এই বিষয়টা থেকে আপনারা হয়তো বুঝে গেছেন যে ফেসবুক আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা ঘটনার সাথে কীভাবে জড়িয়ে গেছে। তবে প্রচার প্রসার এবং ব্যবহারে এগিয়ে থাকার কারনে স্বভাবতই কিছু প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, সেটা হলো এটা আমাদের জীবনের জন্য কতোটা উপকারী? সাম্প্রতিক গবেষণায় যে উত্তরগুলো বের হয়ে আসছে আজ সেগুলো নিয়েই আমার সব আয়োজন।

ফেসবুক উচ্চমাত্রার আসক্তি সৃষ্টিকারী সামাজিক সাইট

এই টিউনটি যারা পড়ছেন তাদের মাঝেও অনেকেই ফেসবুকের চরম মাত্রায় আসক্ত রয়েছেন। আর যে কোন কিছুর প্রতি অতিরিক্ত মাত্রায় আসক্তি থাকাটা একটি সামাজিক ব্যাধি হিসাবে ধরা হয়। এবং এই আসক্তির মাত্রা খুব বেশি হলে যেকোন ধরনের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। আপনি ফেসবুকের প্রতি আসক্ত কিনা সেটা প্রমাণ করার জন্য কয়েকটি প্যারামিটার রয়েছে। আপনি নিজে মিলিয়ে নিন আপনার সাথে কোনগুলো মিলে যায়। তবে সেগুলো আপনার সাথে মিলে যাবে সেগুলো টিউমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না যেন।

ফেসবুক আসক্তির প্যারামিটার-

  • ফেসবুকে ছাড়া আপনি এক মূহুর্ত চলতে পারেন না। যেকোন ঘটনা ফেসবুকে শেয়ার করতে মন চায়।
  • দিনে একাধিকবার ছবি কিংবা স্ট্যাটাস আপডেট করেন।
  • কোন স্ট্যাটাস আপডেট করার পর মিনিটে মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা।
  • স্ট্যাটাসে লাইক কিংবা টিউমেন্টের জন্য মরিয়া হয়ে থাকেন। অটোলাইক অটো টিউমেন্টের পেছনে সময় শ্রম ব্যয় করেন।
  • আপনার এক বা একাধিকবার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং এসময় আপনি নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। কারন যারা ফেসবুক নিয়ে বেশি টেনশন করে তাদের অ্যাকাউন্ট বেশি পরিমাণে হ্যাক হয়।
  • উপরের প্যারামিটারগুলো দেখার পরে যদি আপনার মেজাজ খারাপ হয় তাহলেও আপনি ফেসবুকের প্রতি চরম মাত্রায় আসক্ত। কারন সত্য কথা সব সময় নাকি তিতা লাগে।
  • এই লক্ষণগুলো যদি আপনার মাঝে থেকে থাকে তাহলে আপনি খুব শীঘ্রই মানুষিক এবং সামাজিক বিপর্যয়ের মাঝে পড়ে যাবেন। সুতরাং ফেসবুক থেকে সাময়িক দুরত্ব বজায় রেখে আসক্তি কমানোই শ্রেয়।

ফেসবুক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আপনার চিন্তাশক্তি নিয়ন্ত্রন করে

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৭ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর উপর গবেষণায় দেখা গেছে যদি তাদের টাইমলাইনে ইতিবাচক কোন বিষয় থাকে তাহলে তাদের চিন্তাভাবনাও ইতিবাচক হয়। অন্যদিকে নেতিবাচক বিষয়গুলোও তাদের চিন্তাভাবনাগুলো নেতিবাচক করে দেয়। তবে গবেষণার ফলাফল যায় আসুক সেটা কিন্তু বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। আসল কথা হলো ফেসবুক চাইলেই আমাদের চিন্তাশক্তি তাদের নিজেদের মতো করে তৈরী করতে পারছে। আমরা বিভিন্ন পেইজ, অন্যদের টাইমলাইন ইত্যাদি দ্বারা ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছি। আমাদের চিন্তার জগত ফেসবুকের সাথে মিলে যাচ্ছে। ফেসবুকের যেকোন বিষয়কে আমরা আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলছি। ফলে অনেক মিথ্যা সংবাদ এবং তথ্য নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছি। এবং সেই আমাদের চিন্তার জগতকে পরিবর্তন করে ফেলছি। ইন্টারনেট ডট অর্গের বিরুদ্ধে প্রচারণাগুলোও কিন্তু একই কারনে হয়েছে। কারন এক্ষেত্রে আমরা কোন কোন কন্টেন্ট দেখবো সেটা আগে থেকেই নির্ধারণ করা। অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহার আমাদের নিজেদের রিমোট কন্ট্রোলিং সিস্টেম তৈরী করে। কারন চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে ব্যক্তির স্বাধীনতা মূল্যহীন।

ফেসবুক হলো নতুন খেলার মাঠ

ফেসবুক বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এমন এক জায়গায় দাড় করিয়েছে যে, ফেসবুকের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি আমরা বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে শুরু করেছি। আগে বিকাল হলে আমরা দলবেধে খেলতে যেতাম। ঘুরাঘুরি আড্ডা সব কিছুই হতো। কোন বন্ধুর কাছে প্রয়োজন হলে তার বাসায় গিয়ে একবার ঘুরে আসতাম। আর এখন প্রয়োজন হলে ফেসবুকে চ্যাট এর মাধ্যমেই সব কিছু করা হয়। ফেসবুকে আছে নানা রকম মজাদার গেইম। দিনে প্রায় ১০-৫০ টি গেইম রিকোয়েস্ট বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পেতে হচ্ছে। আমরা ফেসবুক গেইমের উপর এতোটাই আসক্ত যে, যেকোন কথা ফেসবুকিও নিরিখে চিন্তা করি। যেমন, বিকাল বেলা শুয়ে শুয়ে আপনি হয়তো গেইম খেলছেন। এমন সময় আম্মু এসে বললো যে, এখনো শুয়ে শুয়ে কী করছো? যাও বায়রে গিয়ে খেলো। আপনি বাধ্য ছেলের মতো মোবাইল বা ল্যাপটপটা বায়রে এনে গেইম খেলা শুরু করলেন! কিন্তু ভেবে বলেন তো আম্মু কি আসলে এটাই করতে বলছিলো? অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, ফেসবুকে গেইম খেললে সমস্যা কী? পরিমিত মাত্রায় গেইম খেললে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু অনলাইনে গেইম খেললে প্রতিযোগিটা একটু অন্য রকম থাকে। সব সময় নতুন স্কোর করার চিন্তা আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে। ফলে ক্লাসরুম, রিডিংরুম এমনকি মসজিদ মন্দিরে ইবাদত করতে গিয়েও পোলাপাইনদের গেইম খেলতে দেখা যায়।


ফেসবুক মনে করিয়ে দেয় আমাদের কি নেই!

ফেসবুকে অনেক সময় দেখা যায়, আপনি কি সিঙ্গেল? তাহলে আপনার নিউজ ফীডে দারুন সব রিলেশনশীপ তথ্য জানতে পারবেন অমুক পেইজ থেকে। আসলে ফেসবুক সবার জন্য এক উন্মুক্ত জায়গা। এখানে প্রত্যেকটি স্টেইজের মানুষের সমাগম রয়েছে। আপনি নিউজ ফীডে দেখলেন চমৎকার সব হ্যাপি কাপলদের ছবি অথবা তাদের বিষয়ে মজার সব তথ্য। অথবা দেখে ফেললেন প্রেম করার উপকারীতা বিষয়ে কিছু ট্পিস। আপনার মনের ভেতরে তখন সহজাত প্রবৃতির কারনে আপনা আপনি একটা হাহাকার কাজ করবে। আপনি হয়তো খেয়াল করে দেখেন অনেকেই ফেসবুকে হৃদয় বিদারক স্ট্যাটাস আপডেট করে। এগুলো শুধুমাত্র আমাদের আবেগের বেহুদা প্রকাশ। এগুলো দ্বারা সামাজিক ভাবে কোন উপকার না হলেও মানুষিক দিক থেকে ঠিকই আমরা আমাদের অভাবটুকু বুঝতে পারি।


ফেসবুকই অনেকের কাছে ইন্টারনেট

আজকাল ইন্টারনেট বলতে অনেকেই ফেসবুকের বায়রে চিন্তা করতে পারেনা। বন্ধু বান্ধব অনেকেই গল্প করে বলে, আমি সারাদিন ইন্টারনেটে থাকি। আসলে দেখবেন তারা সারাদিন ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে। ফেসবুকে অতি মাত্রায় আসক্তির কারনে ইন্টারনেট এর সঠিক ব্যবহার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ফেসবুকের অন্য একটি ব্যাপার হলো ফেসবুকে অ্যানোনিমাস ব্রাউজিং সাপোর্ট করেনা। ফলে আমরা যে কারো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করার সুযোগ পাচ্ছি। ফলে ইন্টারনেটে সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি অসামাজিক কাজেও জড়িয়ে পড়ছি।


ফেসবুক আমাদের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে

ফেসবুক বিষয়ে সবচেয়ে বড় কথা হলো ফেসবুক আপনার মোড কে পরিবর্তন করতে পারেনা। শুধু সেটার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি যদি কখনো মন খারাপ নিয়ে ফেসবুকে বসেন তাহলে দেখবেন বিভিন্ন জনের মন খারাপ করা স্ট্যাটাসগুলো আপনার মন আরও খারাপ করে দিচ্ছে। তাছাড়া আমাদের অনেকের মাঝে মানুষিকতার সাদৃশ্য থাকার কারনে কখনো কারও মন খারাপ স্ট্যাটাস আমাদের মনকে আরও খারাপ করে দিচ্ছে। ফেসবুকে বানানো কোন ঘটনা যদি আপনার জীবনের সাথে আংশিক মিলে যায় তাহলে সেই ঘটনার শেষটুকুর সাথে নিজেকে মিলাতে শুরু করেন। আজকাল মানুষের মাঝে হতাশা, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং কর্মের দৃঢ়তার যে ঘাটতি দেখা যায় তার মূল কিন্তু অনেকাংশ ফেসবুক। আপনি ফেসবুকে লগিন থাকা অবস্থায় কোন কাজ করলে দেখবেন সময় এবং শ্রম প্রায় ৩গুন বেশি লাগে। আর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো লগআউট অপশনে ক্লিক করা।


আজকের এই টিউনটার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু আপনাদের ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা না। বরং ফেসবুক ব্যবহারে আরও একটু সতর্ক করা। জীবনের প্রয়োজনে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করি। কিন্তু সেই প্রযুক্তির কারনে আমাদের জীবন যাত্রা বাধাগ্রস্থ হলে সেটা সত্যিই হতাশার। আশা করবো সামনের দিনগুলোতে আপনারা ফেসবুকের স্বল্প ব্যবহার করবেন। কারন, প্রত্যেক জিনিসই ততোক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকে যতোক্ষণ পর্যন্ত না সেটার অতিরিক্ত ব্যবহার না করা হয়। তবে শেষ করার আগে একটা মজার জিনিস বলি, আপনারা গুগলে Facebook Addiction লিখে ইমেজ সার্চ করে একবার দেখতে পারেন। এত্তো মজার সব ছবি আসে যে, সেগুলো দেখে হাসতে হাসতে আমি অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। আপনাদের জন্য সেখান থেকে কয়েকটি তুলে দিলাম। এতোগুলো তিক্ত কথার মাঝে কিছুটা আনন্দ দেওয়ার এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই জানাবেন।
  • যখন আমরা পড়তে বসি তখন ফেসবুক যে ভুমিকা পালন করে!

  • গোপন কিংবা প্রকাশ্য যেকোন কিছু যারা ফেসবুকে শেয়ার করে থাকতে পারে না। 

  • জীবনের সব আনন্দময় মূহুর্ত যাদের ফেইসবুক ঘিরে আবর্তিত হয়!

  • ঘটনার গুরুত্বের চাইতে যখন ফেইসবুকে শেয়ার করাটা বেশি প্রাধান্য পায়!


  • ফেইসবুক আসক্তরা যদি কোনদিন ফেইসবুক ছেড়ে বাস্তব জগতে চলে আসে...


  • আমরা প্রতিদিন কিছু ফেইসবুক পাগল দ্বারা যে ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হই।

  • বাংলা ডায়লগগুলো ঘটনা অনুসারে সংযোজন করলাম। জানিনা কেমন হয়েছে, তবে টিউনের কন্টেন্টগুলো নিজের প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।

শেষ কথা

টিউনটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে অথবা বুঝতে যদি কোন রকম সমস্যা হয় তাহলে আমাকে টিউমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। কারন আপনাদের যেকোন মতামত আমাকে সংশোধিত হতে এবং আরো ভালো মানের টিউন করতে উৎসাহিত করবে। সর্বশেষ যে কথাটি বলবো সেটা হলো, আসুন আমরা কপি পেস্ট করা বর্জন করি এবং অপরকেও কপি পেস্ট টিউন করতে নিরুৎসাহিত করি। সবার সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। দেখা হবে আগামী টিউনে।

বাইক কিনেছেন, কিন্তু জ্বালানি বা তেল হিসেবে কি ব্যবহার করবেন পেট্রোল নাকি অকটেন। এই সমস্যায় পড়েননি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। অনেকেই আবার পেট্রোল ও অকটেন দুটোই একসাথে মিশিয়ে বাইকে ব্যবহার করেন। অনেকেই অনেক কথা বলেন, কেউ বলেন পেট্রোল ভালো, আবার অনেকেই বলেন পেট্রোলের চেয়ে অকটেন অনেক ভালো। আসলে কোন জ্বালানি ইঞ্জিনের জন্য ভালো এটা নিয়ে অনেককেই দ্বিধাদন্দ্বে ভোগেন। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সকল বাইক পাওয়া যায় তার প্রায় সবগুলোই ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন, যার একমাত্র জ্বালানি পেট্রোল বা অকটেন। আজ আমরা জানবো আমাদের বাইকটির জন্য কোন জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত।
বিশুদ্ধ জ্বালানি আপনার মটরসাইকেল ইঞ্জিনের জন্য যেমন জরুরী তেমনি দীর্ঘস্থায়ী পারফর্মেন্স ও বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য এটি অনেক কার্যকর। কিন্তু আমরা যে জ্বালানি আমাদের বাইকে ব্যবহার করি তা আসলে কতটুকু বিশুদ্ধ এই প্রশ্নের জন্যই আসে আমাদের বাইকটির জন্য কোন জ্বালানি ব্যবহার ভালো হয়।
আমরা পেট্রোল বা অকটেন নামে যে জ্বালানি কে চিনি, উত্তর আমেরিকায় তা গ্যাসোলিন নামে পরিচিত। আমরা মনে করি যে পেট্রোল ও অকটেন দুটি দুই ধরনের জ্বালানি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পেট্রোল ও অকটেন দুটি একই জ্বালানি এবং এদের রাসায়নিক গঠনও একই(C8H18 )। আন্তজার্তিকভাবে গ্যাসোলিন বা অকটেনকে একটি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এই নাম্বারকে RON নাম্বার বলে। RON নাম্বার দ্বারা গ্যাসোলিনের কোয়ালিটি পরিমাপ করা হয়। যেমন পেট্রোলের RON নাম্বার হলো 86  এবং অকটেন এর RON নাম্বার হলো 91।  RON  হলো “Research Octane Number” এর সংক্ষিপ্ত রুপ।
RON  নম্বর 86 বা এর চেয়ে বেশী হলে তখন তাকে ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ধরা হয়। ইঞ্জিনের কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি, বুস্টিং, বুস্টিং ক্যাপাসিটি এর উপর নির্ভর করে RON নাম্বার নির্ধারন করা হয়। বিদেশের পাম্পগুলোতে RON নাম্বার উল্ল্যেখ করা থাকে এবং তারা তাদের ইঞ্জিনের জন্য ইচ্ছে মত RON নাম্বার ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই ব্যাবস্থা না থাকায় আমরা জ্বালানি কে পেট্রোল ও অকটেন হিসেবে চিনি।আমি আগেই বলেছি যে সকল গ্যাসোলিন বা অকটেনের RON নাম্বার 86 সেগুলো আমরা পেট্রোল হিসেবে চিনি। এবার আসি আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে কোনটি আমাদের বাইকের সাস্থ্যের জন্য ভালো।

প্রথমে আসি পেট্রোলে, সাধারণত আন্তজার্তিক ভাবে অকটেন নাম্বার RON 86 থেকে পেট্রোল শুরু হয় বা এই জ্বালানি কে পেট্রোল বলে। তবে বাংলাদেশে যে সকল পেট্রোল পাওয়া যায় সেগুলোর RON নাম্বার পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে এগুলোর RON 80 যা আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত নয়। কিন্তু একটি দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে আমরা সাধারণত কোন ধরনের বাইক চালাচ্ছি বা আমাদের দেশে কোন ধরনের বাইক গুলোর চাহিদা বেশি। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে আমাদের দেশে 100 সি,সি মটরসাইকেল বেশি চলাচল করে বা 100 থেকে 125 সি,সি  মটরসাইকেল বেশি জনপ্রিয়। এই মটরসাইকেলগুলোর ক্ষেত্রে পেট্রোলের চেয়ে অকটেন ব্যবহার কতটা কার্যকরী তাও আমাদের ভাবতে হয় অন্যদিকে দেখতে হয় পেট্রোলের পরিবর্তে এই মটরসাইকেলগুলোতে কতটা সুফল পাওয়া যায়। সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় যে 100 থেকে 125 সি,সি-এর মধ্যে বাইক গুলোতে পেট্রোলের পরিবর্তে অকটেন তেমন সুবিধা দেয় না। এই বাইকগুলোতে আপনি নির্দ্বিধায় পেট্রোল ব্যবহার করতে পারেন। এই বাইকগুলো সিংগেল পিস্টন, সিংগেল সিলিন্ডার ও দুই ভাল্ব যুক্ত এবং মাঝে মাঝে আমাদের দেশে কিছু টু স্ট্রোক ইঞ্জিন দেখা যায়, যেই মটরসাইকেল গুলোর পারফর্মেন্স বাড়ানো যায় না। তাই এই মোটরসাইকেলগুলোতে পেট্রোল ব্যবহার ঠিক আছে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে পেট্রোলের সাথে অন্যকিছু মেশানো হয়েছে কিনা অর্থাৎ কোন ভেজাল মেশানো হয়েছে কিনা। বর্তমানে দেখা যায় বাজারে অনেক পেট্রোল পাওয়া যায় যেগুলোর সাথে কেরোসিন মেশানো থাকে। এই দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে। তাছাড়া এই বাইকগুলোর জন্য পেট্রোলই যথেষ্ট।
এবার আসি অকটেন এ, আমাদের দেশে সাধারণত যেসব 150 সি,সি বাইক আছে সেগুলোর কম্প্রেশন এর অনুপাত বেশি এবং দুটোর বেশি ভাল্ব থাকে। এই বাইকগুলোতে সাধারণত অকটেন ব্যবহার করা উচিত। এই বাইকগুলোর পারফর্মেন্স বাড়াতে এবং ভালো পারফর্মেন্স পেতে এই বাইকগুলোতে অকটেন বেশ উপযোগী। আরেকটা ব্যাপার হলো আমাদের দেশের ঋতুর পরিবর্তন। শীতকালে আমাদের দেশে অনেক বেশি ঠান্ডা পরে ফলে এসব বাইক স্টার্ট করতে অনেক সমস্যা হয় তাই এসব বাইকে অকটেন ব্যবহার করা হয়।
আমরা অনেককেই দেখি যে তারা পেট্রোলের সাথে অকটেন মিশিয়ে ব্যবহার করেন। অনেকেই মনে করেন যে এমনটি করলে হয়ত ইঞ্জিন ভালো থাকে। তারা অনেকেই জানেন না যে তারা কেন এমনটি করেন। সাধারণত দুটি ভিন্ন RON এর গ্যাসোলিন একসাথে মেশানো হয় যাতে একটি গড় RON নাম্বার পাওয়া যায়। ধরুন RON 80  গ্যাসলিন এর সাথে RON 95 এর গ্যাসোলিন মেশানো হলো তাহলে যে অনুপাত পাওয়া যায় তা হলো RON 87.5। এমনটি করা যেতে পারে যদি দুটি গ্যসোলিনেই একই বুস্টার, ডিটারজেন্ট ও এন্টিঅক্সিডেন্ট অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে গ্যাসোলিনে কি পরিমান অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয় আমরা জানি না এবং আদৌ অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয় কিনা তাও আমরা জানি না। তাই পেট্রোলের সাথে অকটেন মেশানো শুধু ক্ষতিকরই না অনেক অনিরাপদও বটে।
অনেক সময় অনেকেই বলেন, অকটেন ব্যবহারের ফলে তার বাইকের ইঞ্জিন গরম হয়ে যাচ্ছে। আসলে এমনটি হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার বাইকটি যদি 150 সি,সি’র কম হয় তাহলে আপনার শুধু পেট্রোল ব্যবহার করলেই চলবে, তবে অবশ্যই তা বিশুদ্ধ পেট্রোল হতে হবে। অন্যথায় ৫০% পেট্রোল ও ৫০% অকটেন মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটি শুধুমাত্র শীতকালের জন্য। তবে আপনার বাইকটি যদি 150 সি,সি হয়, তাহলে গরম ও ঠান্ডায় আপনি অকটেন ব্যবহার করতে পারেন। তবে 150 সি,সি’র নিচের বাইকগুলোতে যদি অকটেন ব্যবহারে বেশি গরম হয় তাহলে সেগুলোতে অকটেন ব্যবহার না করাই উত্তম। এ সকল বাইকে তাই ভেজাল মুক্ত পেট্রোল ব্যবহার করা উচিত।
আমাদের বাইকের জন্য অবশ্যই বিশুদ্ধ গ্যাসোলিন ব্যবহার করতে হবে। ভেজালযুক্ত গ্যাসোলিন আমাদের বাইকের ইঞ্জিনে সমস্যা করে, ভালো মাইলেজ পাওয়া যায় না এবং বাইকের ইঞ্জিন এ মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই আপনার পরিচিত পাম্প থেকে ভেজাল মুক্ত ও বিশুদ্ধ জ্বালানিকিনে ব্যবহার করুন, বাইকের ইঞ্জিনকে সুরক্ষা দিন।

আমরা সবাই জানি স্মার্টফোনের ব্যাটারিতে চার্জ না থাকা একটি বড় সমস্যা। চার্জ না থাকার ভয়ে গান শোনা বা ইন্টারনেট ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হয় অনেক সময়। তবে এখন থেকে আর এ নিয়ে চিন্তা নেই। কারণ অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ফিচার ব্যাটারির চার্জ বাঁচাবে!


জানেন কি?

আসলে কি কারণে বা কোন অ্যাপ ব্যাটারির চার্জ খাওয়ার জন্য দায়ি তা আমরা ঠিক মতো বুঝতেও পারি না। এই সমস্যার জন্য অ্যান্ড্রয়েডের নতুন অপারেটিং সিস্টেম একটি সমাধান নিয়ে আসতে চলেছে।
গুগল ১৭ মে শুরু হওয়া আই/ও ডেভেলপার সম্মেলনে বেশ কিছু ঘোষণার সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন অপারেটিং ‘ও’ এর বেশ কিছু ফিচারেরও ঘোষণা করা হয়। বর্তমান ব্যবহারকারিদের ফোনে যে ব্যাটারি মেনুটি রয়েছে সেটি আপনাকে ব্যাটারি সেভার মোডে টগল করতে ও প্রতি অ্যাপের পরিসংখ্যান দেখায়, তবে এটি আসলে কার্যকর নয়। এজন্যই নতুন সংস্করণটি আরও বেশি উপযোগী করা হচ্ছে যা ব্যাটারি মেনুতে অভিযোজিত উজ্জ্বলতা ও ব্যাটারি শতাংশ আইকন সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলি গ্রাহকদের প্রদর্শন করবে।
ম্যাশেবল বলেছে, এই ফিচারের সক্রিয় ব্যবহার, ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার ও প্রতিটি অ্যাপের ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেখা যাবে। আবার সে অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশনটি বন্ধ করে দিতে কিংবা আনইনস্টল করা যাবে। তাই নির্দিধায় বলা যায়, নতুন এই রিডিজাইন প্রতিষ্ঠানের ব্যাটারি লাইফে মনোযোগ দেওয়াকেই নির্দেশ করে থাকে। যে কারণে বিশ্বব্যাপী অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারিদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুগল এবার আনতে চলেছে নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘এন্ড্রয়েড গো’। এই ‘এন্ড্রয়েড গো’ সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্করণ হিসেবে বাজারে আসবে।



প্রতি বছরই গুগল তাদের বার্ষিক সম্মেলনে নতুন নতুন সব জিনিস নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া নতুন কি আসছে সেগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গুগল একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম আনার ঘোষণা দিয়েছে। এটি মূলত এন্ড্রয়েড এর মতোই, তবে একটু ভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। মূলত এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্করণ। এই নতুন সংস্করণটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এন্ড্রয়েড গো’।
জানেন কি?
 


জানানো হয়েছে, এটি মূলত বানানো হয়েছে কম দামি স্মার্টফোনের জন্য। কম দামি স্মার্টফোন সাধারণত কম স্পেসিফিকেশনের হয়ে থাকে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে র্যাম কম হলেও কোনো সমস্যা হবে না।
১ জিবি এর কম র্যাম এমন ফোনেও এটি ভালোভাবে চলতে পারবে। আবার অন্যদিকে এই অপারেটিং সিস্টেমে অ্যাপ সাইজও হবে কম। যে কারণে স্টোরেজও কম লাগবে। সে কারণে ‘এন্ড্রয়েড গো’ এর জন্য পৃথকভাবে ইউটিউব অ্যাপ ‘ইউটিউব গো’ বানানো হবে। এটি হবে ইউটিউবের লাইট ভার্সন। প্রাই সব অ্যাপই ১০ এমবি এর মধ্যে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অনেকেই হয়তো আগে Localhost কে ওয়েভ সার্ভার বানিয়েছেন এবং সফল ভাবে ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক এর মধ্যে অ্যাক্সেসও করেছেন। কিন্তু দুক্ষজনক ভাবে বাহির থেকে তা করতে পারেন নি। যারা পেরেছেন তারা এই প্রাইমারি মার্কা টিউন না পড়লেও হবে। কিছু মানুষের আবার চুল্কানি বেশি তারা আবার চুল্কাইতে আস্তে পারে, তাদের আমি ভয় পাই 😛 ..আমার ভয় এই জায়গায় যে আমি কম জানি ও কম বুঝি সাথে সাথে বেশি বুঝার চেষ্টা করি... 😀

শুরুতে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা দেখা যাক

সুবিধাঃ

১. হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার এর জন্য টাকার দরকার নেই
২. যেহেতু সব কিছু নিজের পিসিতে তাই দ্রুত পরিবর্তন করা যায় । নতুন কিছু যোগ ও করা যায়
৩. অপলোড এর ঝামেলা নেই

অসুবিধাঃ

১. সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল ব্যান্ডউইথ। কোন Unlimited Plan অথবা Lan না থাকলে লাভের চাইতে ক্ষতিই বেশি হবে।
২. সার্ভার চালু রাখতে হলে আপনার পিসি সব সময় চালু রাখতে হবে
৩. আরেকটা অসুবিধা হল Speed । আমাদের দেশে ইন্টারনেট এর স্পীড অনেক কম একারনে সার্ভারের স্পীড ও কম হবে। নিজের সাইট কে Popular বানাতে চাইলে এটা Worse Option । অনেক ভিজিটর থাকলে সার্ভার বিপুল সময় নিবে
উপরের কথা গুলো শুনে অনেকেই ডিমোটিভেটেড হয়ে গেছেন। আরে ভাই একটা জিনিস করতে পারার আনন্দটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি লিমিটেড প্লান এর মডেম চালাই তাও বেশ কিছুদিন সার্ভারের টেস্ট রান করিয়েছি। নিজের টাকার বিপুল পরিমান বাশ দিয়েছি 😛
আর কথা না বাড়িয়ে শুরু থেকে শুরু করা যাক

যা যা লাগবে :\

Xampp সফটওয়্যার। আমরা অলস জাতি তাই এটাই আমাদের কাজের জন্য যথেষ্ট। আমাদের যা যা দরকার সবই আছে এর মধ্যে- Apache, PHP, MySQL । এবং এটা সব configuration এর কাজ করে দিবে।
এই সফটওয়্যার এর latest installer version ডাউনলোড করব।
আপাতত এটাই latest - xampp-win32-1.8.3-4-VC11-installer.exe (125 mb) (direct link)
ভাই আপনার চাইতে আমি আরো বড় অলস । লেখা লিখি করতে মন চায় না তাই লেখা কম ছবি বেশি। কেউ মাইন্ড খাইয়েন না। ধাপে ধাপে ছবি ও কথা অনুসরন করুন।
১. Xampp সফটওয়্যার installer টি run as administrator দিয়ে চালু করুন

২. এন্টিভাইরাস থাকলে warning দিতে পারে। এটা কোন সমস্যা না। antivirus disable করে অথবা না করেই yes চাপুন সেটা আপনার ইচ্ছা। 😀

৩. আরো একটা ওয়ার্নিং !! যা বলতেসে তা করতে পারেন অথবা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এগিয়ে যান

৪. আরে ভাই এটাও বলা লাগবে? Finish না আসা পর্যন্ত চাপতে থাকুন। 3 কি চাপবেন?! “Next” 😛

৫. Finish বাটন আসলে “Do you want to start the control panel now” untick দিয়ে finish চাপুন

৬. এবার Start>programs>xampp>xampp control panel অথবা c:\xampp\xampp-control.exe run as administrator দিয়ে চালু করুন।


৭. এবার apache এর পাশের red cross এ ক্লিক করলে service install এর জন্য বলবে। সেখানে yes চাপুন। একই ভাবে mysql এরটাও করুন। আপাতত আমাদের এই দুইটা হলেই চলবে।



৮. এরপর apache & mysql start বাটন চেপে চালু করুন। (**এ পর্যায়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে পারেন )


৯. এখন একটা ব্রাউজার খুলে address bar এ লিখুন “ Localhost “ ।

১০. বাম পাশে status এ ক্লিক করে দেখুন প্রথম ৩/৪ টা সার্ভিস Activated কিনা

১১. এরপর security তে ক্লিক করুন। দেখবেন আমার যেখানে secure লেখা সেখানে আপনার unsecure লেখা। কারন এই screen shot টা ভুলে তখন নেই নাই :v যাই হোক secure করার জন্য নিচে একটা লিঙ্ক দেয়া আছে ওইটায় ক্লিক করুন

১২. এখানে mysql এর root user এর জন্য password দিয়ে password changing এ ক্লিক করুন। পরে xampp directory protection এর জন্য user & pass দিয়ে make safe এ ক্লিক করুন।

১৩. এবার আবার localhost এ গিয়ে PhpMyadmin এ ক্লিক করলে লগিন এর পেজ আসবে সেখানে Mysql এর ইউজার root এবং আপনার সেট করা password দিয়ে লগিন করুন।

এবার আমরা সার্ভারে ওয়েভ সাইট ইন্সটল করব...

এক্ষেত্রে আমরা WordPress ইউজ করছি। না থাকলে ডাউনলোড করে নিন এখান থেকে।
১. প্রথমে c:\xampp\htdocs ফোল্ডারটিকে রিনেম করে দিব “htdocs_default” নামে এবং নতুন একটি folder বানবো “htdocs” নামে

২. এবার ডাউনলোড করা wordpress.zip এর সব htdocs ফোল্ডার এ কপি করতে হবে


৩. এখন phpmyadmin এ গিয়ে create database এ wordpress নামে একটা database বানাবো

৪. এবার ব্রাউজার এ localhost/wp-admin/install.php লিখে এন্টার চাপলে ছবির মত আসবে। সেখানে সব কিছু পুরন করে “install wordpress” চাপলে “success” পেজ আসবে

৫. ওখানে লগিন চেপে username & password দিলে wordpress এর admin panel আসবে।

৬. এখন অন্য একটা ট্যাব এ localhost ওপেন করলে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট দেখতে পাবেন

উফফ... শেষ হল localhost এ সার্ভার ইন্সটল। এসব আমি না বললেও পারতাম কারন আগে এ নিয়ে অনেক টিউন হয়েছে। যারা করেছিলেন তারা এখানে এসে গলা বাজি করতেও পারেন।তাদের বলছি... শুধু নতুনদের জন্য ছিল এ পার্টটুকু।
সার্ভারতো বানালাম লোকাল ip দিয়ে অ্যাক্সেস ও করা যাবে কিন্তু যারা আমার নেটওয়ার্ক এ নেই মানে সারা দুনিয়ার মানুষ, তারা কি আমার ওয়েব সাইট দেখতে পারবে না?
উত্তরঃ পারবে। তবে একটু কষ্ট করতে হবে। সবাই অ্যাক্সেস করার জন্য আমাদের external ip দরকার যা internal ip থেকে সম্পুর্ন ভিন্ন। আমাদের সবার ই একটা করে আলাদা আলাদা external ip আছে । http://whatsmyip.org/ এখানে গেলে ip টা দেখা যাবে । লজিক বলে , ওই ip সরাসরি ব্রাউজার এ টাইপ করে আমাদের ওয়েব সাইট অ্যাক্সেস করা যাবে, কিন্তু না... আমাদের পিসির ফায়ার ওয়াল এবং সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ISP ,সার্ভারের জন্য দরকারি পোর্ট 80 সহ অন্নান্য পোর্ট বন্ধ করে রাখে। পোর্ট খোলার জন্য firewall execption set করতে হয় এবং যদি router ইউজ করি তবে তাতে port forward করতে হয়। port forward এর নিয়ম সার্চ করলে পাওয়া যাবে। আমার router নাই তাই ওভাবে দিতে পারলাম না। আবার অনেক সময় external ip গুলো dynamic হয়ে থাকে মানে প্রতি বার change হয়, যেমনটা আমার modem এ হয়।
(অনেকের পোর্ট 80 & 8080 firewall disable করলেই ওপেন হতে পারে তারা
এখান থেকে টেষ্ট করে নিবেন http://www.whatsmyip.org/port-scanner/ । খোলা থাকলে নিচের ২ নং সমাধান ফলো করার দরকার নাই।)

সমাধান ১ :

যেহেতু আমদের প্রথমিক লক্ষ্য বাহির থেকে সাইট অ্যাক্সেস করা তাই সহজে তা কিভাবে করা যাবে সেটা আগে দেখি
১. প্রথমে ngrok নামে এই সফটওয়্যার টি নামিয়ে নিন এখান থেকে
২. Ngrok.zip এর মধ্যে ngrok.exe ফাইল পাবেন । ওটাকে c:\windows\system32 তে কপি করে দিন।
৩. এবার নোটপ্যাড ওপেন করে “ ngrok 80 “ লিখে anything.bat নামে যেকোন জায়গায় সেভ করুন।

৪. এবার বানানো ফাইলটিতে right click করে run as administrator দিয়ে চালু করুন। সব ঠিক থাকলে নিচের মত আসবে

৫. এখন ব্রাউজার এ localhost:4040 লিখে এন্টার দিলে আমার মত আপনার সাইটের জন্য লিঙ্ক পাবেন। ওই লিঙ্ক এ ক্লিক করে দেখুন আগে বানানো ওয়ার্ডপ্রেস সাইট টা আসে কিনা। যদি আসে তাহলে আর কি? দিয়ে দিন ওটা আপনার বন্ধুকে টেষ্ট করার জন্য, আশা করি সে আপনার সাইট অ্যাক্সেস করতে পারবে

কিছু কথাঃ

ngrok software টি VPN এর মাধ্যমে কাজ করে। এটা ফ্রি কিন্তু প্রতিবার connect করলে এটা different লিঙ্ক assign করবে। যা ওয়েব পাব্লিশ এর জন্য সুবিধা জনক না। নিজের ইচ্ছামত hostname দেয়া যায় কিন্তু এটা ওদের প্রিমিয়াম feature।
সমাধান ২ : (port forwarding- software method)
(এই সমাধানটি lan connection এর ক্ষেত্রে ট্রাই করা হয় নাই। )
১. পিসির firewall disable করুন
২. Simple port forwarding সফটওয়্যার টি নামিয়তে নিন এখান থেকে
৩. সফটওয়্যার টি ইন্সটল করে ওপেন করুন

৪. Router drop down এ আপনার router এর নাম থাকলে ভাল ওটা সিলেক্ট করুন ,না থাকলেও কোন সমস্যা নাই 😛
৫. নিচের খালি জায়গায় right ক্লিক করে add new তে যান। সেখানে ছবির মত 80 & 8080 পোর্ট দুটি add করুন


৬. এবার update router চাপুন। দেখবেন অনেক কিছুই আসবে, ওয়রনিং অথবা error ও আসতে পারে তাতে কোন সমস্যা নাই। সব শেষে done আসলে কাজ শেষ। এবার সফটওয়্যার টি ক্লোজ করে দিন


৭. এখন http://www.whatsmyip.org/port-scanner/ এখানে গিয়ে 80 & 8080 পোর্ট দুটি টেষ্ট করে দেখুন ওপেন দেখায় কিনা? ছবির মত দেখালে সব ঠিক আছে.. 😀

৮. এখন আপনার external ip ব্রাউজার এ লিখে এন্টার চেপে দেখুন যে আগে বানানো ওয়ার্ডপ্রেস সাইট টি আসবে। বন্ধুকে ip টা দিয়ে ট্রাই করতে বলেন। আশা করি কাজ হবে
*** কিছু কথাঃ
সফটওয়্যার টির কার্যক্ষমতা আমার জানা নাই কিন্তু আমার মডেম এ কাজ হয়েছে। আমি আমার সার্ভিস প্রভাইডার কে port forward নিয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন যে আমার মডেম এ port forward সম্ভব না এটা করতে হলে router মডেম লাগবে। তারা কি জানে না যে এভাবেও কাজ হয়?!
সার্ভারে ডোমেইন নেম এ্যাড করাঃ (dynamic ip এর সমাধান)
আগেই দেখেছি ngrok ডোমেইন নেম provide করে কিন্তু তা dynamic । আমাদের static একটা নেম দরকার। যেহেতু আমরা আমাদের সার্ভার বানাতে কোন টাকা খরচ করছি না তাই এবার ফ্রি ডোমেইন ragistration ইউজ করব।
১. https://www.noip.com/sign-up এখানে গিয়ে সাইন আপ করতে হবে। সাইন আপ এর সময় domain নেম দিবেন যেটা আপনি চান। ফ্রী গুলার শেষে .ddns.net এ ধরনের কিছু থাকবে। আসলে আমাদের টা হবে sundomain

২. এবার ওদের dynamic DNS update client (DUC) ডাউনলোড করুন এখান থেকে
৩. সফটওয়্যার টি ইন্সটল করে ওপেন করুন। লগিন এর জায়গা আসলে username & pass দিয়ে লগিন করুন

৪. এবার edit host এ ক্লিক করুন। নতুন একটা বক্স আসবে সেখানে আপনার domain টি দেখতে পাবেন। পাশের বক্স এ টিক দিয়ে save চাপুন

৫. সব ঠিক থাকলে ছবির মত দেখাবে

দাড়ান আর একটু বাকি আছে...
Noip পোর্ট 80 redirect করে না ওরা 8080 করতে পারে তাই আমাদের সার্ভার কে পোর্ট 8080 তেও কাজ করানর জন্য config করতে হবে
৬. Xampp control panel ওপেন করে apache এর বরাবর যে config বাটন আছে তাতে ক্লিক করে Apache (httpd.conf) চাপলে নোটপ্যাড এ config file টা ওপেন হবে । সেখানে “ Listen 80 “ লাইন টা খুজে বের করে তার নিচে “ Listen 8080 “ add করে সেভ করে দিতে হবে। তারপর apache restart করতে হবে।

এখন আপনার anything.ddns.net এ ঢুকে দেখেন যে আপনার বানানো ওয়ার্ডপ্রেস সাইট টি আসবে!
***কিছু কথাঃ
Noip এর DUC সফটওয়্যার টি dynamic external ip কে ডোমেইন এর সাথে যুক্ত করে। সফটওয়্যার টি চালু না থাকলে ডোমেইন নেম কাজ করবে না কারন ip change হবে কিন্তু ডোমেইন তা জানতে পারবে না । যদি আমরা নিজের .com টাইপ ডোমেইন চাই তাহলেও নিতে পারি তবে এটার জন্য টাকা লাগবে।। 😀
ব্যাস আর কি? এবার চালান ওয়েব সাইট আপনার পিসি থেকে...!!!

আজ কথা বলব  Wi-Fi হ্যাকিং নিয়ে  ;আশা করি সকলের টিউনটি ভালো লাগবে। এই টিউন কিন্তু কিভাবে Wi-Fi হ্যাক করতে হয় সে বিষয়ে নয়।
আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে Wi-Fi হ্যাকিং কি? কিভাবে Wi-fi হ্যাকিং করা হয়?  Wi-Fi হ্যাক করতে কম্পিউটার না স্মার্টফোন কি দরকার পরে?  এরকম অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে ঘোরাঘোরি করে। আজ কথা হবে WPS সিস্টেম বেসড Wi-Fi হ্যাকিং নিয়ে; ৯৮% Wi-Fi এরকম ভাবেই হ্যাক হয়।

WPS এর ব্যবহার অতি জনপ্রিয়; ধরুন আমাদের বাসায় বা অফিস এ অনেক মানুষ বা মেহমান আসল; সবাইকে তো আর ১০/১১ ডিজিটের পাসওয়ার্ড বলা যাবে না; সেক্ষেত্রে আমরা যা করি তা হল রাউটার এর পেছনে থাকা WPS বাটনটি চালু করে দেই,এতে একটি নির্দিষ্ঠ সময়ের জন্য সকলের জন্য Wi-Fi উন্মুক্ত হয়ে যা
য়।
আর একটি সিস্টেম হল WPS বাটন অফ থাকলেও রাউটার এর সিস্টেম এ WPS বাই ডিফল্ট ভাবে অন থাকে; এবং এটি কাজ করে রাউটার এর পেছনে লেখা পিন দ্বারা আর যেটি সচরাচর ৮ ডিজিট এর নামেরিক (নম্বর ভিত্তিক) পিন হয়।আমাদের মনে হতে পারে ৮ ডিজিট এর পিন সিকিরিটি ভালোই আছে তবে এই ধারনাটি ভুল।
পিন টি তো ০০০০-০০০০ থেকে ৯৯৯৯-৯৯৯৯ এর ভেতরই কোন সংখ্যা, তাই নয় কি? আর সফটওয়্যার এর মাধ্যমে এটি বের করা অত্যান্ত সহজ। বর্তমানে এন্ড্রয়েড বা কম্পিউটারে যে সফটওয়্যার এর মাধ্যমে Wi-Fi হ্যাক করা হয়, প্রায় সবই এই সিস্টেমেই পাসওয়ার্ড হ্যাক করে থাকে।
সুতরাং আজই আপনার Wi-Fi কে সুরক্ষিত করতে হলে আপনার Wi-Fi এর এডমিন প্যানেল এ লগিন করুন এবং WPS বাই ডিফল্টভাবে অন থাকলে তা অফ করে ফেলুন।




ই আর্টিকেলটি লিখতে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির কথা মনে পড়ে গেলো, তৎকালীন সময়ে আমি সরল করা এবং সুদকষা অংকে বেশ পারদর্শী ছিলাম। তো শ্রেণির অংক শিক্ষক আমার প্রতি মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, “তোর মাথাটা না, পুরাই কম্পিউটার!” যদিও সেই সময় “কম্পিউটার” শব্দটি ব্যতিত এর চেয়ে বেশি কিছু আর জানতাম না, শুধু জানতাম, এদিয়ে আশ্চর্য সব কাজ করানো যায়। তবে তখন না জানলেও, এখন জানি—মানুষের ব্রেইনই আসলে সবচাইতে আশ্চর্য জিনিষ। কম্পিউটারের আমাদের মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা নেই, এই যন্ত্র হালের বলদের মতো শুধু নির্দেশ পালন করে।

কিন্তু কম্পিউটারকে যদি মানুষের মতো বুদ্ধিমান এবং চালাক তৈরি করতে চাওয়া হয়, তবে তা কিভাবে সম্ভব হবে? বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের পেছনে অনেক ছুটেছে, আর আবিষ্কার করেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ডীপ লার্নিং প্রযুক্তি। বহু দশকের সাধনার পরেও কম্পিউটারকে মানুষের মতো শিক্ষা দেওয়া অনেক কঠিনতর ব্যাপার ছিল। তবে নিউরাল নেটওয়ার্কের সাহায্যে মানুষের মতো মিলিয়ন আর্টিফিশিয়াল ব্রেইন সেল ব্যবহার করে কম্পিউটার একদম মানুষের ঘিলুর হুবহু কাজ করতে পারে। নিউরাল নেটওয়ার্ক আবার আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক নামেও পরিচিত—যা ডীপ লার্নিং এর একটি অংশ। তো আসলে এটি কি এবং কিভাবে কাজ করে? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক…

ব্রেইন ভার্সেস কম্পিউটার

আপনার কল্পনায় যতো প্রাণী আসবে, যেমন- স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ প্রাণী, মাছ, উভচর প্রাণী, ইত্যাদি সকলের ব্রেইন বা মস্তিষ্ক রয়েছে। কিন্তু সকলের চাইতে মানুষের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ আলাদা। আঁকারে খুব বড় না হলেও, এটি কথা বলতে, চিন্তা করতে, সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে এবং মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক অঙ্গ এটি। একটি আদর্শ মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়নের (তবে ৫০ বিলিয়ন থেকে ৫০০ বিলিয়ন পর্যন্ত থাকতে পারে) মতো অতিক্ষুদ্র কোষ থাকে—যাকে নিউরন বলা হয়।
প্রত্যেকটি নিউরনের কোষ দেহ থাকে এবং এর সাথে অনেক গুলো ডেনড্রাইটস (Dendrites) (কোষের ইনপুট কোষদেহ পর্যন্ত বহনকরে নিয়ে যায়) এবং একটি করে আক্সন (Axon) (কোষ থেকে তথ্যের আউটপুট বেড় করে দেয়) থাকে। নিউরন গুলো অত্যান্ত ক্ষুদ্রাকার হয়ে থাকে, প্রত্যেক মিলিমিটারে প্রায় ১০০টি করে নিউরন আটতে পারে। মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ কোষের মাত্র ১০ শতাংশ জুড়ে নিউরনের অবস্থান থাকে, বাকি কোষ গুলোকে গ্লিয়াল কোষ (Glial Cells) বা নিউরগ্লিয়া (Neuroglia) বলে, এগুলো নিউরনকে সমর্থন এবং রক্ষা করে এবং নিউরনে শক্তির সঞ্চার করে।
নিউরনঅপরদিকে কম্পিউটারে মানুষের ব্রেইন কোষের বদলে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকার সুইচ লাগানো থাকে, যাকে ট্র্যানজিস্টর বলা হয়। বর্তমান প্রযুক্তির সর্বাধুনিক মাইক্রো প্রসেসরে ২ বিলিয়নেরও উপর ট্র্যানজিস্টর লাগানো থাকে। সাধারন মাইক্রো প্রসেসর গুলোতে ৫০ মিলিয়নের মতো ট্র্যানজিস্টর লাগানো থাকে এবং এই সমস্ত জিনিষ গুলো একত্রে একটি সার্কিটের উপর বসানো থাকে, যা ২৫ মিলিমিটার বর্গাকার হয়ে থাকে।

তো এই হচ্ছে মানুষের ব্রেইন এবং কম্পিউটারের মূল গঠন। কম্পিউটার একটি ধাতব বাক্স আর এটি বাইনারি নাম্বারের উপর কাজ করে এবং মস্তিষ্ক হলো একটি জীবন্ত জিনিষ যা অনুভূতি এবং স্মৃতিশক্তির উপর কাজ করে—এটিই কিন্তু কম্পিউটার আর ব্রাইনের মধ্যের এক মাত্র পার্থক্য নয়। আসল পার্থক্য হলো কম্পিউটার এবং মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতিতে কাজ করে। কম্পিউটার প্রসেসরে ট্র্যানজিস্টর গুলো সহজভাবে লাগানো থাকে, প্রত্যেকটি ট্র্যানজিস্টর সাধারনত ২-৩টি ট্র্যানজিস্টরের সাথে কানেক্টেড থাকে, একে লজিক গেটস (Logic Gates) বলা হয়। কিন্তু মস্তিষ্কের মধ্যে নিউরন গুলো অত্যন্ত জটিলভাবে প্যারালেলে পরস্পরের সাথে কানেক্টেড থাকে। প্রত্যেকটি নিউরন প্রায় ১০,০০০ নিউরনের সাথে কানেক্টেড থাকে। তো কম্পিউটারের কয়েকশত মিলিয়ন ট্র্যানজিস্টর যা সহজভাবে প্যারালেলে লাগানো থাকে আর ব্রেইনে এর চেয়ে ১০-১০০ গুন বেশি কোষ যা জটিলভাবে পরস্পরের সাথে কানেক্টেড থাকে—এদের এই ভিন্ন গঠনের জন্যই কম্পিউটার এবং ব্রেইন সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে “ভাবে” এবং কাজ করে। বিশাল পরিমানে ডাটা (যা কম্পিউটারের নিজের কাছে অর্থহীন) সংরক্ষিত রাখার জন্য কম্পিউটারকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয় এবং এই ডাটাগুলোকে কম্পিউটার কিভাবে প্রসেসিং করবে তা বলে দেওয়ার জন্য কম্পিউটারে প্রোগ্রাম ইন্সটল করানো হয়।
অপরদিকে, মস্তিষ্ক কোন জিনিষ শিখতে দেরি করে, মনে রাখার জন্য বারবার চর্চা করতে হয়, এবং বিভিন্ন জিনিষ বিভিন্নভাবে শিখতে পারে, নিজেই নতুন শেখার পদ্ধতি তৈরি করে নিতে পারে—এভাবেই মানুষের কাজের মধ্যে সৃজনশীলতা দেখতে পাওয়া যায়। মানুষের মস্তিষ্ক যেকোনো প্যাটার্নকে মনে রাখতে পারে, পরে মিলাতে পারে, এবং জানা জিনিষ গুলোকে ভিন্ন নজরে দেখতে পায়।
তো কেমন হতো, যদি কম্পিউটার একদম মানুষের ঘিলুর মতো করেই কাজ করতো? আর এখানেই নিউরাল নেটওয়ার্ক চলে আসে।

নিউরাল নেটওয়ার্ক কি?

কম্পিউটারকে মানুষের ব্রেইনের মতো তৈরি করতে চাইলে সাধারন আইডিয়া অনুসারে একে ব্রেইনের হুবহু বিল্ড করা প্রয়োজনীয় হবে। অর্থাৎ এর মধ্যে অসংখ্য পরিমানে ব্রেইন সেল লাগাতে হবে যা পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত থাকবে—যাতে সেই কম্পিউটার দিয়ে প্যাটার্ন চেনানো যায়, কোন কিছু শেখা যায় এবং মানুষের মতো কোন বিষয়ের উপর সিধান্ত গ্রহন করতে পারে। নিউরাল নেটওয়ার্ক এর সবচাইতে মজার ব্যাপার হবে, এতে কম্পিউটারকে কোন কাজ করানোর জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করতে হবে না, সে আপনাআপনি কাজ শিখে নেবে, ঠিক আমাদের মতো।




কিন্তু সত্যি কথা বলতে, মানুষের ব্রেইনের হুবহু কোন কম্পিউটার ডিজাইন করা সম্ভব নয়, তাই হার্ডওয়্যার নয়, বরং সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাধারন ট্র্যানজিস্টর লাগানো কম্পিউটারকে—বিলিয়ন ব্রেইন সেল লাগানো কম্পিউটারের মতো আচরন করানোর চেষ্টা করা হয়। আমরা বর্তমানে যে কম্পিউটিং করি এবং যে প্রোগ্রাম ব্যবহার করে কাজ করি, এর আউটপুট শুধু আমাদের কাছেই মূল্য রাখে, কম্পিউটারের কাছে নয়। কম্পিউটার কখনোই জানেনা, আপনি তার সাথে কি করছেন। আপনি যে টাস্কই কম্পিউটারকে সম্পূর্ণ করতে দিন না কেন—কম্পিউটার সেগুলোকে ক্যালকুলেসন করবে, বাইনারিতে পরিবর্তন করবে, সংখ্যা গুলোকে প্রসেসিং করে বিভিন্ন প্যাটার্নে সাজাবে এবং আপনি আউটপুট দেখতে পাবেন। যেমন ধরুন ডাটা স্টোরেজের কথা, আপনি এতে মিউজিক, ভিডিও, ফটোস, আর জানি কতো কি সংরক্ষিত করে রাখেন। আপনার কাছে প্রত্যেকটি ডাটার আলাদা আলাদা মতলব রয়েছে, কিন্তু আপনার ফোন বা যেকোনো কম্পিউটিং ডিভাইজের কাছে আপনার মিউজিক, ফটো, ভিডিও গুলো ওয়ান এবং জিরো ছাড়া আর কিছুই না।
তো মূলত নিউরাল নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি কম্পিউটিং ব্যবস্থা যা মানুষের মতো প্রত্যেকটি জিনিষ বুঝতে পারবে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে পারবে এবং ধীরেধীরে কোন ভুলত্রুটিকে শুধরিয়ে নেবে। কম্পিউটার কোন কুকুরের ফটোকে জাস্ট কোন ডাটা (1/0) হিসেবে না দেখে মানুষের মতো কুকুরের ফটো হিসেবেই দেখবে—আর এটাই হচ্ছে নিউরাল নেটওয়ার্ক। আর যেহেতু নিউরাল নেটওয়ার্কে সফটওয়্যার দ্বারা পরিচালিত করা হয়, ব্যস্তবিক ব্রেইনের মতো ডিভাইজ করা হয় না তাই এই সম্পূর্ণ প্রসেসটিকে আমরা আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্কস বা এএনএনএস (ANNs) বলবো। এটি মানুষের ব্রেইনের মতো কাজ করলেও, এটি কিন্তু ব্রেইন নয়।

নিউরাল নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে?

দেখুন এর কাজ করার পদ্ধতি বা এর অভ্যন্তরে ঘটা ব্যাপার গুলো বোঝা একটু মুশকিলের, এতে এমন অনেক টার্ম চলে আসবে যেগুলো নিয়ে আবার আলাদা আলোচনা করার প্রয়োজন পড়বে। তাই বেশি টেকনিক্যাল দিকে না দিয়ে সহজ ভাষায় এবং পর্যাপ্ত উদাহরনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা করবো।
একটি আদর্শ নিউরাল নেটওয়ার্কে হাজার থেকে লাখো আর্টিফিশিয়াল নিউরন থাকতে পারে, এদের ইউনিট (Units) বলা। এই ইউনিট গুলোকে একে অপরের সাথে ক্রমনুসারে সাজানো থাকে এবং প্রত্যেকে একে অপরের সাথে কানেক্টেড থাকে ঠিক কোন নেটওয়ার্কের মতো। এদের মধ্যে কিছু ইউনিট রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের তথ্য গ্রহন করে, যেমন আমরা কোন বস্তুকে দেখি, রঙ চেনার চেষ্টা করি, আঁকার বুঝি ইত্যাদি—এই ইউনিট গুলোকে ইনপুট ইউনিট বলা হয়। এই ইউনিট গুলো নিউরাল নেটওয়ার্ক কে চিনতে, জানতে বা প্রসেস করাতে সাহায্য করে। নেটওয়ার্কের আরেক পাশে রয়েছে আউটপুট ইউনিট—যা কম্পিউটারটি ব্যস্তবিক জিনিষ থেকে ঠিক কি জ্ঞান লাভ করলো তার বহির প্রকাশ করে। এতেই কিন্তু শেষ নয়, এই ইনপুট ইউনিট এবং আউটপুট ইউনিটের মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে হিডেন ইউনিট, যা নেটওয়ার্কটির অধিকাংশ আর্টিফিশিয়াল নিউরন দ্বারা গঠিত। তো দেখা গেলো, এতে তিন ধরনের ইউনিট থাকে, এদের গ্রুপকে লেয়ার বলা হয়। প্রত্যেকটি লেয়ারের ইউনিট গুলো প্রত্যেকটি ইউনিটের সাথে পরস্পর সম্পৃক্ত থাকে এবং একে অপরের কাছ থেকে তথ্য প্রসেসিং করিয়ে তবেই সর্বশেষ রেজাল্ট বা আউটপুট প্রদান করে। প্রত্যেকটি ইউনিটের একে অপরের সাথের কানেকশনকে একটি নাম্বার দ্বারা অঙ্কিত করানো হয়—একে ওয়েট (Weight) বলে। যদি একটি ইউনিট আরেকটি ইউনিটের তথ্যের সাথে সম্মতি প্রদান করে তবে ওয়েট পজিটিভ হয় আর সম্মতি নাকজ করে দিলে ওয়েট নেগেটিভ হয়।

এখন আসি এটি কাজ করে কিভাবে তার প্রসঙ্গে, নিউরাল নেটওয়ার্কে দুই পদ্ধতি যেকোনো ডাটা প্রবাহিত হয়। যখন কম্পিউটারটি কোন কিছু বিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করে তখন এক ধরনের ডাটা প্রবাহিত হয় এবং শিক্ষা গ্রহন করার পরে, কম্পিউটারটি যখন অ্যাকশনে নেমে পরে তখন এক ধরনের ডাটা প্রবাহিত হয়। যখন কম্পিউটারটি কোন শিক্ষা গ্রহন করতে থাকে তখন তার শেখাকে ঠিক করতে বারবার ফিডব্যাকের প্রয়োজন পড়ে, যে সে ঠিক শিখছে না ভুল শিখছে। যেমন- টিচারের সামনে আপনি কোন বানানকে ভুল লিখলে তিনি তা শুধরিয়ে দেন, এবং আমাদেরও কিছু শেখার জন্য সবসময় ফিডব্যাকের প্রয়োজন পড়ে। মনেকরুন আপনি এয়ারগান দিয়ে বেলুন সুট করছেন। আপনি বেলুনের দিকে বন্দুকটি তাক করে সুট করলেন, কিন্তু গুলিটি একটি উপরদিয়ে চলে গেলো। এখন দ্বিতীয়বার যখন আপনি সুট করবেন তখন নিশ্চয় আগের বারের পজিশন এবং টার্গেটিং এর কথা মাথায় রাখবেন। এবার নিশ্চয় বন্দুকটি একটি নিচু করে সুট করবেন, কেনোনা আপনার মস্তিষ্ক জানে, সে আগের বারে উঁচু করে সুট করে লাগাতে পারেনি। এভাবে চেষ্টা করতে করতে বা ভুল শোধরাতে শোধরাতে আপনি সঠিক নিশানা তৈরি করতে পারবেন।
নিউরাল নেটওয়ার্কও ঠিক এমনিভাবে কোন শিক্ষা গ্রহন করে। প্রত্যেকবারে এটি ইনপুট ইউনিট থেকে তথ্য গ্রহন করে। ধরুন ইনপুট থেকে কম্পিউটারকে একটি বেড়ালের ফটো দেখানো হলো। এটি এই তথ্যগুলোকে অর্থাৎ এটি দেখতে কেমন, কি আকারের হয়ে থাকে, কোথায় চোখ আছে, কোথায় মুখ আছে ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষিত রাখে। এখন প্রত্যেকটি বিড়াল তো আর এক রকমের হয়না, তাই নেটওয়ার্ক কে শিক্ষা দেবার জন্য অনেক বিড়ালের ফটো দেখানো প্রয়োজন পড়ে। এখন যদি আরেকটি ফটো দেখিয়ে কম্পিউটারকে বলা হয়, এটি বিড়াল না কুকুর। তবে প্রথমে এটির তথ্য ইনপুট ইউনিট গ্রহন করবে এবং তা হিডেন ইউনিটের কাছে পাঠিয়ে দেবে। হিডেন ইউনিটের কাছে আগের বিড়ালের ফটো থেকে অনেক তথ্য রয়েছে, তাই এটি ইনপুটকে বিশ্লেষণ করতে আরম্ভ করবে। ধরুন একটি ইউনিট এর নাকের আঁকার, ধরণ, রঙ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করবে যদি সেটি বিড়ালের সাথে মিলে যায় তবে সে পজিটিভ ওয়েট প্রদান করবে, আরেকটি ইউনিট হয়তো চোখ পর্যবেক্ষণ করবে আরেকটি হয়তো লেজ পর্যবেক্ষণ করবে। তো এই হিডেন ইউনিটের প্রসেসিং এবং ওয়েটের পজিটিভ বা নেগেটিভ রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে আউটপুট প্রদান করবে। যদি আউটপুট ভুল আসে তবে কম্পিউটিং সিস্টেমটিকে জানাতে হবে যে সে ভুল রেজাল্ট দিয়েছে, পরবর্তীতে কম্পিউটিং সিস্টেমটি আর সেই ভুলটি করবে না। ঠিক যেমন আমরা ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করি।
এখন মনেকরুন আপনি নিউরাল নেটওয়ার্ক কে কিছু চেয়ার এবং টেবিলের ছবি দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ নতুন কিছু মডেলের চেয়ার টেবিলের ছবি তার সামনে তুলে ধরলেন, যা আগে কখনো দেখানো হয় নি। এবার কম্পিউটিং সিস্টেমটি আগের দেখানো চেয়ার টেবিল গুলো থেকে ধারণা নেবে (যেমন মানুষ করে থাকে) এবং নতুন চেয়ার টেবিল গুলোকে আলাদা ভাবে ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করবে। তবে আপনি কি ধরনের শিক্ষা দিয়েছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার পূর্বের শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়েই এটি কাজ করবে এবং প্রত্যেকবারই নতুন কিছু শিখবে।
এখন কোন মানুষকে বলা হলো, “তাহমিদ, তোমার সামনের চেয়ার টেবিল গুলোর দিকে দেখো”। এভাবে কিন্তু কোন কম্পিউটারকে বলা যাবে না, কম্পিউটারের ইনপুট অবশ্যই বাইনারিতে হতে হবে—কারন এটি যতোই মানুষের মতো কাজ করার চেষ্টা করুক না কেন, এটি মানুষ নয়। আমরা জানি, কম্পিউটারের প্রত্যেকটি ইনপুট গ্রহন করার জন্য সুইচ অন বা অফ হয় (ট্র্যানজিস্টর অন/অফ)। নিউরাল নেটওয়ার্ক আপনাকে উত্তর শুধু নেগেটিভ বা পজিটিভ ভাবে প্রদান করবে। মনেকরুন আপনি টেবিল চেয়ারের ছবি দেখিয়ে ইনপুট করলেন, ১) এটার কি পেছনের হেলান দেওয়ার জায়গা আছে? ২) এর কি উপরিতল আছে? ৩) এতে কি নরম গদি লাগানো রয়েছে? ৪) এখানে কি দীর্ঘ সময়ের জন্য আরামে বসা যাবে? ৫) এর উপর কি অনেক জিনিষ পত্র রাখা যাবে? এখন কম্পিউটার “টেবিলের ক্ষেত্রে” আপনাকে জবাব দেবে, হ্যাঁ, না, হ্যাঁ, হ্যাঁ, না বা বাইনারিতে উত্তরটি হবে 10110 এবং টেবিলের ক্ষেত্রে উত্তর দেবে না, হ্যাঁ, না, না, হ্যাঁ বা বাইনারিতে 01001। অর্থাৎ শেখার সময় এটি টেবিলকে 01001 হিসেবে দেখতে পাবে এবং চেয়ারকে 10110 হিসেবে দেখতে পাবে, এবং এটি চেয়ার না টেবিল সেটিও বুঝতে পারবে।

শেষ কথা

নিউরাল নেটওয়ার্কে আশানুরূপ উন্নতিকরণ করা সম্ভব হলে সম্পূর্ণ কম্পিউটিং প্রযুক্তি পরিবর্তন হয়ে যাবে। তাছাড়া বর্তমানে বিমানের অটোপাইলট, ক্রেডিট কার্ড ট্র্যানজাকশন, রাডার স্ক্যানিং নিয়ন্ত্রন, হাতের লেখা চেনা, ভয়েস রিকগনেশন, ইমেইল স্প্যাম ধরার কাজে নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত বুদ্ধিমান রোবট বানানো সম্ভব হবে, যা হুবহু মানুষের মতো আচরন করবে। যাই হোক, আজকের বিষয়টি সত্যিই অনেক জটিল ছিল, এতে মাঝেমাঝে কিছু টেকনিক্যাল টার্ম চলে এসেছিলো কিন্তু তারপরেও আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে সহজ ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।
আশা করছি, অসাধারণ লেগেছে আপনাদের—নতুন কোন জিনিষ শিখতে আমার নিজেরও অনেক ভালো লাগে। আজকের বিষয় বা যেকোনো টেক নিয়ে আপনার যেকোনো প্রশ্ন করতে নিচে টিউমেন্ট করুন, এবং অবশ্যই টিউনটি শেয়ার করুন।

ফেইসবুক হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোস্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট এবং অনেক লোকই চায় অন্যের ফেইসবুক আইডি হ্যাক করতে। কিন্তু তাদের জন্যে একটি দুঃখের সংবাদ হচ্ছে বলতে গেলে প্রায় কেউই সরাসরি ফেইসবুক সার্ভার নিজের দখলে নিয়ে যে কারো আইডি হ্যাক করতে সক্ষম নয়।


ফেইসবুকের আছে অনেক লোক সমৃদ্ধও একটি সিকিউরিটি স্পেপালিস্টদের টিম যারা রাতদিন কাজ করে ফেইসবুকের নিরাপত্তা বজায় রাখে। তবে ফেইসবুক সার্ভারে সরাসরি দখল নিয়ে ফেইসবুক আইডি হ্যাক করতে না পারলেও নানান পদ্ধতির মাধ্যমে ভিকটিম কে বোকা বানিয়ে তাদের মেইল আইডি এবং ফেইসবুক পাসওয়ার্ড নিজের দখলে আনা যায়। আপনারা সবাই ফিশিং মেথডটির কথা জেনে থাকবেন আশা করি...যারা জানেন না আশা করি আজকে তারাও এই বিষয়টি সম্পর্কে জানবেন এবং আগামীতে এটা থেকে সতর্ক থাকবেন। এই টিউনটিও শিক্ষনীয় উদ্দেশ্যে লেখা, কারো ক্ষতির জন্যে না।
ফিশিং মেথড হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেইসবুক আইডি হ্যাক করার। ফিশিং এর কাজ হচ্ছে,স্ক্যামিং এর মাধ্যমে ভিকটিমের ই-মেইল এবং ফেইসবুক আইডির পাসওয়ার্ড আপনার কাছে পৌছিয়ে দেওয়া। ফিশিং বর্তমান সময়ে ইউজার একাউন্ট হ্যাক করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মেথড।
হ্যাকার যদি আপনার উপরে সফলভাবে এই এট্যাকটি করতে সক্ষম হয় তাহলে আপনার একাউন্ট সম্পুর্ন হ্যাকারের হাতে চলে যাবে।
ফিশিং এর ডেক্সটপ ভার্সন বা কিভাবে ফিশিং ডেক্সটপে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে অনেক টিউটোরিয়াল হলেও মোবাইল ফোন দিয়ে কিভাবে ফিশিং অপারেট করতে হয় সে সমন্ধে তেমন বেশী টিউন টিউন করা হয়নি টেকটিউনসে।
আজকের টিউনে আমি দেখাবো কিভাবে মোবাইলের মাধ্যমেই ফিশিং হোস্টিং সেটাপ করতে হয় এবং আরো একটি জিনিস দেখাবো আপনারা অনেকেই এই সমস্যাটির সম্মুখিন হয়ে থাকবেন যে আপনারা কোনো ফ্রি হোস্টিং এ আপনাদের ফিশিং আপলোড করলে কিছুক্ষনের ভিতরে সে ফিশিংটি ডিলিট হয়ে যায় যার কারণ হচ্ছে হোস্টিং কর্তিপক্ষ বুঝতে পারে যে আপনি কোনো অনৈতিক কার্য সিদ্ধির জন্যে ফেইক ফেইসবুক বা অন্য যেকোনো ওয়েবসাইটের ফিশিং তাদের হোস্টিং এ আপলোড করেছেন। তাই সেটা তারা ডিলেট করে দেয়। আজকের টিউনে আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে সেটা বাইপাস করা যায় এবং ফ্রি হোস্টিংএই ফিশিং ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতাঃ টিউনটি শুধুমাত্র শিক্ষনীয় উদ্দেশ্যে লিখিত কেউ টিউনের ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করলে টিউনার এবং টেকটিউনস কর্তিপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকবেন না।
চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

প্রথমেই এই ফাইলগুলো ডাউনলোড করে নিন  এটা রেসপন্সিভ ফেইবুক ফিশিং পেইজ যেটা হোস্টিং এ আপলোড করলে তারা সেটা ডিটেক্ট করতে পারবে না।
জিপ ফাইলটি তে আপনারা নয়টি ফাইল দেখতে পাবেন (data.php, data1.php, index.php, Mobile_Detect.php, desktop.jpg, follow.jpg, login.jpg, desktop_files(folder), users.txt) নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন


এবার আমাদের যা করতে সেটা হচ্ছে ফ্রি ওয়েব হোস্টিং এ সাইন আপ করে ফাইলগুলো আপলোড করে দিতে হবে, মোবাইল থেকে করলে ইউসি ব্রাউজার ব্যবহার করে কাজটি করলে সুবিধা বেশি হবে।
প্রথমেই 000webhost এর সাইনআপ পেইজে যান গুগলে সার্চ করলেই পাবেন, টেকটিউনস হয়তো ঐ লিঙ্ক সরাসরি দেওয়া সমর্থন করে না তাই দিলাম না।
সাইনআপ পেইজে গিয়ে যথাযথ ইনফরমেশন পুর্ন করুন এবং ফ্রি হোস্টিং এ ক্লিক করুন (একটা ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন, অবশ্যই সাব-ডোমেইন নির্ধারন করে নিবেন একটি)

রেজিস্ট্রেশনের পরে আপনার ই-মেইলে একটিভেশন মেইল যাবে, সেটাতে ক্লিক করে আপনার একাউন্ট ভেরিফাই করে নিন এবং রিফ্রেশ করুন এড্রেসটি, একাউন্ট একটিভ হওয়ার পরে নিচের স্ক্রিনশটটি দেখতে পাবেন সেখান থেকে Go to Cpanel এ ক্লিক করুন (নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন)

এইবার প্রথমে ফাইল ম্যানেজার আইকনটি ওপেন করুন ফাইল ম্যানেজারস সেকশন থেকে।
(যদি ফাইল ম্যানেজার ওপেন না হয় তাহলে ফাইল সেকশন থেকে এফটিপি পাসওয়ার্ড টি চেঞ্জ করে নিন এবং ৫ মিনিট অপেক্ষার পরে পেইজটি রিলোড করুন এবং ফাইল ম্যানেজার ওপেন করে নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করুন। এছাড়া একটি ফাইল ম্যানেজার কাজ না করলে আরো দুইটি ফাইল ম্যানেজার দেওয়া আছে সেগুলোও ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারেন)



ফাইল ম্যানেজারে যাওয়ার পরে সর্বপ্রথম আপনারা উপস্থিত হবেন "public_html" ডিরেক্টরিতে এইখানে আগে থেকেই দুইটি ফাইল দেখতে পাবেন ফাইলদুটি ডিলেট করে দিন, এবং আপলোডে ক্লিক করুন

আর্কাইভ সেকশনের এর নিচে ডান পাশে ফাইলস এ ক্লিক করুন এবং ফাইল ম্যানেজারে ক্লিক করুন এইবার ডাউলোড করা জিপ ফাইলটি (যে ফাইলটি টিউনের শূরুতে ডাউনলোড করেছিলেন) সেটা সিলেক্ট করে আপলোড করে দিন


সিলেক্ট করে দেওয়ার পরে আপলোডের জন্যে সবুজ টিক চিহ্নটিতে ক্লিক করুন, আপলোড হয়ে যাবে।
অপেক্ষা করুন সম্পুর্নভাবে আপলোড হওয়ার জন্যে


আপনার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং সফলভাবে আপনি একটি ফিশিং ওয়েবসার্ভার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
জরুরী বিষয়ঃ
এইবার প্রথমেই যে আপনি সাব-ডোমেইনটি নিয়েছিলেন সেটাই হবে আপনার আপলোড করা ফিশিং পেইজের এড্রেস আপনি যে সাব ডোমেইনটি নিয়েছিলেন তার শেষে এই এড্রেসটি যোগ করুন ফিশিং পেইজ দেখার জন্যে, এই জিনিসটি যোগ করা হয়েছে হোস্টিং ফায়ারওয়ালের চোখ ফাকি দেওয়ার জন্যে। যাতে সেটা বুঝতে না পারে এটা একটি ফিশিং পেইজ এই জিনিসটি এড করুন আপনার সাব ডোমাইন নেইমের শেষে /?id=facebook
ধরুন এই ধরনের হবে জিনিসটা : http://www.facebookphishing.com/?id=facebook
নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন


এবার যদি ভিকটিম তার আইডি পাসওয়ার্ড প্রবেশ করায় আপনার ফিশিং এ তাহলে সেটা আবার দেখতে পাবেন ফাইল ম্যানেজারে গিয়ে সেখানে users.txt নামে একটি ফাইলে ভিকটিমদের সবার আইডি পাসওয়ার্ড সেইভ হতে থাকবে সেখান থেকে ভিউ বাটনে ক্লিক করুন তাতেই আপনি আপনার ভিকটিমের ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেখতে পাবেন।


সবাইকে ধন্যবাদ নিজের মুল্যবান সময় দিয়ে আমার টিউনটি পড়ার জন্যে।

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে খুব ভালোই আছি। আসুন আজ নতুন একটা টপিক নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ললিপপ চালিত ফোনে মুলত একটা সমস্যা হলো ফোনটিতে আপনি যে গুগল একাউন্ট ব্যবহার করবেন সেই একই গুগল একাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে ফোনটি রিসেট করার পর। বেশির ভাগ মানুষেরই এই কারনে সমস্যার মুখোমুখি পড়তে হয়। সমস্যার সমাধান করার জন্য কয়েকটি স্টেপ অনুধাবন করতে হবে। আর অবশ্যই ওয়াই-ফাই কানেকশন থাকতে হবে অথবা অন্য মোবাইল দিয়ে হটস্পট করেও চালাতে পারেন। এছাড়া স্যামস্যাং একাউন্ট থাকতে হবে, তবে কাজের মধ্যেও করে নিতে পারবেন। চলুন তাহলে শুরু করা যাক....

  • প্রথমে এখান থেকে সফটওয়ারটি ডাউনলোড করে নিন। এটি কম্পিউটারের জন্য ব্যবহার করতে হবে। ডাউনলোড করার পর সফটওয়্যারটি ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল করার পর ওপেন করুন।
  • তারপর পাওয়ার বাটন চেপে ফোনটি চালু করুন।
  • ওয়াই-ফাই কানেক্ট করুন।
  • গুগল একাউন্ট প্রদান করার অপশন আসলে থেমে যান।
  • এখন ইউএসবি কেবল দ্বারা কম্পিউটারের সাথে আপনার ফোন কানেক্ট করুন। ড্রাইভার ইনস্টল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এখন খেয়াল করুন আপনার ফোনে ইন্টারনেট এক্সেস এর জন্য অনুমতি চাইছে। ডিফল্ট ব্রাউজার, গুগল ক্রোম ও প্লে-স্টোর ওপেন  হবার অনুমতি চাইছে।

এখন এই সফটওয়্যারটা ডাউনলোড করে নিন (এটা ফোনের জন্য)। ডাউনলোড হয়ে গেলে ইউএসবি ক্যাবল দ্বারা ফোনে ট্রান্সফার করুন (ধরে নেই ডাউনলোড ফোল্ডারে ট্রানস্ফার করলেন)।
  • এরপর আপনি গুগল ক্রোমে প্রবেশ করুন।
  • কিছু এক্সেস চাইবে ওকে/নেক্সট করে যান।
= স্যামস্যাং অ্যাপস স্টোরে অটোমেটিক ঢুকে যাবে। এখানে ES File Manager লিখে সার্চ দিন। ইনস্টল বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনাকে স্যামস্যাং একাউন্ট এর আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করতে হবে   (না থাকলে রেজিষ্টার করে নিন)।
লগইন করার পর অ্যাপসটি ডাউনলোড হবে। এবার ওপেন করুন। ডাউনলোড ফোল্ডারে (এর আগে যে ফোল্ডারে ডাউনলোডকৃত সফটওয়্যারটি রেখেছিলেন) ঢুকুন। অ্যাপসটি ইনস্টল করুন আপনার ফোনে। ওপেন করুন।
  • পারমিশন চাইবে পারমিশন দিন। এরপর সরাসরি আপনার ফোনের সেটিংস মেনু তে ঢুকে যাবে। ব্যাকাপ ও রিসেট অপশনে যান আর ফোন রিসেট দিয়ে দিন।
  • এখন আপনার ফোন রিবুট হবে। আর আগের মত আবার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ফোন চালু করুন।
  • যদি কোন সমস্যা হয় তো যোগাযোগ করতে পারেন

ফেইসবুক আইডি        ই-মেইল করুন


শিরোনাম দেখে আশ্চর্য হচ্ছেন? আশ্চর্য হোন আর যাই হোন, ব্যপারটা আসলেই সম্ভব। ঐদিন টেকটিউনস এর ”সাহায্য” বিভাগে কেউ একজন 3D চশমার ব্যপারে জানতে চেয়েছিল। তারপর থেকে আমিও এ ব্যপারে কৌতুহলী হয়ে উঠি। কিন্তু খোজ নিয়ে জানতে পারলাম যে একেকটি 3D চশমার দাম প্রায় ২৫০০ টাকা! তারপর থেকে বিকল্প কিছু আছে কিনা তা জানতে চেষ্টা করি। এখানে সেখানে ঢু মারতে মারতে একটি ব্লগে এ ব্যপারে বিস্তারিত জানতে পারি। আর তা-ই আপনাদের জন্য তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।


3D চশমা বানানোর জন্য যা যা প্রয়োজন-
১। মোটা কাগজ(খাতার মলাট-ও ব্যবহার করতে পারেন)
২। ক্যাচি, পেপার কাটার/ব্লেড
৩। লাল এবং নীল রং এর সেলোপিন(Celopin) পেপার (যেকোন বিয়ের সাজানির দোকানে পাবেন)
৪। আঠা (ফেভিকল হলে ভাল হয়)
মূল্য-তালিকা:
* সেলোপিন পেপার- লাল রং এর একটি + নীল রং এর একটি(১৫+১৫=৩০ টাকা)
* ফেভিকল আঠা – ৩০ টাকা।
* প্রিন্ট খরচ- সর্বোচ্চ ১০ টাকা
আর অন্যান্য জিনিশ(ক্যাচি, ব্লেড/পেপার কাটার, মোটা মলাট) সাধারনত সবার ঘরেই থাকে।
এবার মুল পর্বে আসা যাক। প্রথমে  এখান থেকে   ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন, অথবা ফাইলটি দেখে দেখে ছবিটি প্রথমে একে নিন এবং পরে কেটে নিন মাপ্ মত। আর চশমার পা দুটিও কেটে নিতে ভুলবেন না।
এবার, চশমাটি চোখে দিলে যে পাশটি ডানদিকে থাকে সেপাশে নীল সেলোপিন পেপার আঠা/গাম দিয়ে লাগিয়ে নিন। অনুরুপভাবে অপরপাশে অর্থাৎ বামপাশে লাল সেলোপিন পেপার লাগিয়ে নিন। এবার আঠা দিয়ে পা দুটিও লাগিয়ে নিন।
শুকানোর জন্য ১৫ মিনিট সময় দিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল 3D চশমা। এবার উপভোগ করুন….।
চাইলে এখান থেকে   (http://farm4.static.flickr.com/3442/3381129221_99713d985c_o.jpg)  কিছু 3D image Download করে নিতে পারেন। অথবা   http://images.google.com এ সার্চ দিতে পারেন।
অথবা ভিডিও প্লেয়ারে থ্রিডি অন করে মুভি উপভোগ করতে পারেন। ২ ডি মুভিতেও কাজ করবে।

আমার চ্যানেলে শীগ্রই থ্রিডি গ্লাস বানানোর ভিডিও টিউটোরিয়াল দেওার চেষ্ট করব। আপনারা পেতে চাইলে চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করে নিয়েন। ধন্যবাদ।
আজকের টিউন এই পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ।

সম্মানিত পাঠকগন। আজকে আমরা ইন্টারনেট সার্ভার বা মাইক্রোটিক রাউটার সম্পর্কে কিছু বেসিক ইনফরমেশন জানার চেষ্টা করবো। আশাকরি ইন্টারনেট যুগে এই তথ্যগুলি খুব কাজে দিবে। আর আইটি ম্যান হলে তো কথাই নেই।
Mikrotik সার্ভার পরিচিতি:

তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রসারের একটি যুগোপযোগী উদাহরণ হলো নেটওয়ার্কিং বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং৷ নেটওয়ার্কিং আমাদের তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে কাঙ্খিত গন্তব্যে৷ যখন একজন হোস্ট এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কের একজন হোস্টের কাছে কোন তথ্য প্রেরণ করে তখন এই তথ্য বা ডাটা’কে মধ্যবর্তী আরও অনেক নেটওয়ার্ক হয়ে যেতে হয়৷ তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক পথ বা রুট নির্বাচন করা৷ তা না হলে সঠিক গন্তব্যে সঠিক তথ্য প্রেরণ কখনও সম্ভব হবে না৷ আর নেটওয়ার্কিং-এর ক্ষেত্রে এই কাজটি করে থাকে রাউটার৷ ‘রাউটার’ হলো নেটওয়ার্ক লেয়ারের একটি কার্যক্রম, যেটি সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার যেকোনো একটি হতে পারে এবং যা এক বা একাধিক মেট্রিক ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে এক হোস্ট থেকে অন্য এক বা একাধিক হোস্টের কাছে ডাটা ট্রান্সমিশনের উত্তম পথ নির্ধারণ করে থাকে৷ প্রথাগতভাবে রাউটারকে অনেক ক্ষেত্রে ‘গেটওয়ে’ নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে৷ কম্পিউটারকে পরিচালনার জন্য যেমন ‘অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) ব্যবহৃত হয় তেমনি রাউটারকে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয় ‘রাউটার ওএস’ (অপারেটিং সিস্টেম)৷ আর মাইক্রোটিক রাউটার ওএস হচ্ছে তেমনই একটি রাউটার অপারেটিং সিস্টেম৷
মাইক্রোটিক লিমিটেড বা মাইক্রোটিকল্স লিমিটেড, আন্তর্জাতিকভাবে মাইক্রোটিক হিসেবে পরিচিত। এটি লাটভিয়ার কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এরা তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি ও রাউটার বিক্রয় করে। ১৯৯৫ সালে তারবিহীন প্রযুক্তির উঠতি বাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির উদ্দেশে এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৭ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে ৭০ জনের বেশি কর্মকর্তা ছিল। ব্যায়বহুল রাউটার ও ইথারনেট রিলে লাইনের বিপরীতে স্বল্প মুল্যের বিকল্প হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিচিত।(চলবে)
Powered by Blogger.