পনি যদি সামান্য একটুও গিক টাইপের হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই জানেন যে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্সের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আপনার কম্পিউটারে চলা লিনাক্স সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম থেকে আলাদা, আপনি কম্পিউটারের লিনাক্স অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড্রয়েডে চালাতে পারবেন না, কিংবা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন কম্পিউটার লিনাক্স সিস্টেমে চালাতে পারবেন না, কিন্তু কেন? চলুন, এর বিস্তারিত উত্তর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা যাক…

লিনাক্স কার্নেল

সর্ব প্রথম আমাদের লিনাক্স সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজনীয়। দেখুন, বেশিরভাগ মানুষ লিনাক্সকে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে, তারা বলে তাদের পিসিতে লিনাক্স ইন্সটল করেছে। কিন্তু পিসিতে লিনাক্স ইন্সটল করা মানে হচ্ছে, লিনাক্সের কোন একটি ডিস্ট্রকে ইন্সটল করা। লিনাক্স কোন অপারেটিং সিস্টেম নয়, এটি একটি কার্নেল, আর প্রত্যেকটি অপারেটিং সিস্টেম চলার জন্য কার্নেল প্রয়োজনীয়। কার্নেল মূলত সিস্টেম সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার গুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে দিতে সাহায্য করে থাকে। অর্থাৎ লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেমের কোর হচ্ছে লিনাক্স।
পিসিতে যে লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোকে রান করানো হয়, সেখানে শুধু লিনাক্স কার্নেলই থাকে না, বরং লিনাক্সের আরো কিছু স্পেশাল সফটওয়্যার যুক্ত করা থাকে। সেখানে লিনাক্স সফটওয়্যার গুলো রান করার জন্য নিজস্ব পরিবেশ থাকে এবং এক্স গ্রাফিক্যাল সার্ভার থাকে। উবুন্টু, মিন্ট, ডেবিয়ান, ফেডোরা, ইত্যাদি সহ আরো অন্যান্য লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোতে লিনাক্স কার্নেল ব্যতিতও আলাদা সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে। যেমন জিনোম (GNOME) ডেক্সটপ ইনভারমেন্ট ইন্সটল থাকার জন্য বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রতে ডেক্সটপ ইন্টারফেস দেখতে পাওয়া যায়। ধরুন আপনি সার্ভার উপযোগী লিনাক্স ডিস্ট্র আপনার সিস্টেমে ইন্সটল করেছেন, তো সেখানে ডেক্সটপ ইন্টারফেস থাকবে না, কেনোনা সার্ভারে কম্যান্ড ব্যবহার করে কাজ করানো হয়, এখন আপনি যদি এতে ডেক্সটপ পেতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে ডেক্সটপ ইন্টারফেস ইন্সটল করতে হবে।
এমনি ভাবে, অ্যান্ড্রয়েড শুধু মাত্র লিনাক্স কার্নেলের উপর তৈরি, কিন্তু এতে লিনাক্সের সফটওয়্যার রান করানোর জন্য আলাদা লিনাক্স সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করা থাকে না। গুগল তাদের অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল হিসেবে লিনাক্স ব্যবহার করে, কেনোনা লিনাক্স ওপেন সোর্স, অর্থাৎ একে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে কাস্টম করা যাবে। গুগল তাদের অ্যান্ড্রয়েডকে নিজের মতো করে কাস্টম করে নেয়। আর লিনাক্স কার্নেল ব্যবহার করার ফলে তাদের নিজে থেকে আর কোন কার্নেল তৈরি করার দরকার হয়না। তাছাড়া অ্যান্ড্রয়েড তো শুধু গুগল একা ব্যবহার করে না, অনেক কোম্পানি তাদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করে, এবং তারা সেখানে তাদের নিজস্ব কিছু ফিচার যোগ করতে চায়। যেহেতু লিনাক্স ওপেন সোর্স, তাই তারা নিজের ইচ্ছা অনুসারে কাস্টম করে থাকে।

অ্যান্ড্রয়েড বনাম লিনাক্স

এখন অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্সের উপর তৈরি হলেও এটি লিনাক্সের আলাদা ডিস্ট্র গুলো মতো নয়। আগেই আলোচনা করেছি, ডেক্সটপ ডিস্ট্র গুলোতে আরো বিভিন্ন প্রকারের সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে তা থাকে না। যখন অ্যান্ড্রয়েড বুট হয়, তখন সেটা লিনাক্স আকারেই বুট হয়, কিন্তু বুট হওয়ার পরে অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব একটি ভার্চুয়াল মেশিন রান হয়, যেটা জাভা দ্বারা তৈরি করা সফটওয়্যার গুলোকে রান করতে সক্ষম। মানে, আপনি একভাবে বলতে পারেন, অ্যান্ড্রয়েড হলো লিনাক্সের উপর রান হওয়া একটি ভার্চুয়াল মেশিন।
বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করার জন্য চলুন একটি উদাহরণ নেওয়া যাক, মনে করুন, আপনার কম্পিউটারটি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত। অর্থাৎ আপনার সিস্টেমে অবশ্যই উইন্ডোজ যেকোনো সফটওয়্যার রান করানো সম্ভব। কিন্তু এবার মনে করুন আপনি আপনার কম্পিউটারে একটি ভার্চুয়াল মেশিন সফটওয়্যার ইন্সটল করলেন এবং ভার্চুয়াল মেশিনের মধ্যে উবুন্টু ইন্সটল করলেন। এখন ভাল করে সম্পূর্ণ বিষয়টি ভেবে দেখুন, আপনার ভার্চুয়াল মেশিনটি কিন্তু উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের উপর রান করছে, কিন্তু মেশিনের ভেতর ইন্সটল থাকা উবুন্টুতে আপনি উইন্ডোজ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন না, আবার সেখানের লিনাক্স সফটওয়্যার গুলোকেও আপনি উইন্ডোজে ব্যবহার করতে পারবেন না। ভার্চুয়াল মেশিন সম্পূর্ণ আলাদা পরিবেশ তৈরি করে এবং নিজেই একটি স্বাধীন কম্পিউটারের ন্যায় আচরন করে। ঠিক এইভাবেই, অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্সের উপর তৈরি হয়েও ডেক্সটপ লিনাক্স সফটওয়্যার গুলো সমর্থন করে না।
আবার লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোও অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার গুলোকে সমর্থন করে না। কেনোনা লিনাক্স ডিস্ট্র গুলো লিনাক্স সফটওয়্যার রান করানোর জন্য তৈরি করা হয়, এবং এতে কোন ভার্চুয়াল মেশিন ইন্সটল করা থাকে না, যেটা জাভা অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে রান করাতে পারে। তবে অ্যান্ড্রয়েড এবং লিনাক্সের আলাদা ডিস্ট্র গুলোর মধ্যে একটি জিনিষ কমন, তা হলো এটি টার্মিন্যাল সমর্থন করে। অর্থাৎ অ্যান্ড্রয়েডকে আপনি বিভিন্ন লিনাক্স কম্যান্ড প্রদান করাতে পারবেন। কিন্তু বেশিরভাগ লিনাক্স কম্যান্ড রান করানোর জন্য অ্যান্ড্রয়েডটি রুটেড থাকা প্রয়োজনীয় নয়, কেনোনা টার্মিন্যাল ঠিকঠাক মতো চলার জন্য রুট পারমিশন ডিম্যান্ড করে।
লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোতে যদি অ্যান্ড্রয়েড ভার্চুয়াল মেশিন ইন্সটল করা যায়, তবে সহজেই লিনাক্স কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার গুলোকে ইন্সটল করা এবং রান করানো সম্ভব হবে। যেমনটা আপনারা উইন্ডোজ কম্পিউটারে দেখে থাকবেন, ব্লুস্টাকস নামের একটি প্রোগ্রাম, যেটা ভার্চুয়াল মেশিনের উপর রান হয়ে আপনার পিসিতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন চলাতে সাহায্য করিয়ে থাকে। গুগলের ক্রোম ওএস ও কিন্তু লিনাক্সের উপর তৈরি, কিন্তু এতেও এক্স সার্ভার থাকে না, ফলে এতে লিনাক্সের সফটওয়্যার গুলো রান করানো সম্ভব নয়। অ্যান্ড্রয়েডের মতো ক্রোম ওএস ও লিনাক্সের অন্যান্য ডিস্ট্র গুলোর অনেক কাছাকাছি, সেখানে কিছু উন্নতি করন করলে লিনাক্স সফটওয়্যার গুলোকে রান করানো সম্ভব হবে। অপরদিকে উবুন্টু মোবাইল ওএস একেবারেই লিনাক্সের মতো, এখানে আপনি মোবাইলে ডেক্সটপ লিনাক্স ব্যবহার করার মতো ফিচার গুলো পাবেন।

শেষ কথা

আশা করছি, এই আর্টিকেলটি পড়ার পরে অবশ্যই আপনার মনের সকল প্রশ্ন গুলোর পরিষ্কার উত্তর পেয়ে গিয়েছেন, কেন অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্স এর উপর কাজ করার পরেও এটি লিনাক্স থেকে আলাদা। লিনাক্সের ডেক্সটপ ডিস্ট্র এবং অ্যান্ড্রয়েড, দুই ব্যাপার দুইভাবে তৈরি করা হয়েছে, কেনোনা এদের ব্যবহার আলাদা আলাদা। তবে আপনি চাইলে আপনার কম্পিউটারে অনেক সহজেই অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার রান করাতে পারেন, ঠিক অ্যান্ড্রয়েডেও ভার্চুয়াল মেশিন ইন্সটল করে যেকোনো পিসি সফটওয়্যার রান করানো সম্ভব। আমি নেক্সট কোন এক আর্টিকেলে বর্ণনা করবো, কিভাবে লিনাক্স কার্নেলের উপর আপনি নিজের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করবেন।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে আমরা আমাদের ব্রেইনকে বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে তুলনা করে আসছি—আগে ঘড়ি, টেলিফোন, ক্যালকুলেটর এবং বর্তমানে কম্পিউটারের সাথে মানুষের ব্রেইনকে তুলনা করা হয়। যদিও আমাদের ব্রেইন আমাদের বানানো সকল প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে কাজ করে। আমরা মানুষেরা অনেক অসাধাদ্ধ সাধন করতে সক্ষম হয়েছি এবং বর্তমানে নিউরাল নেটওয়ার্ক এর মতো প্রযুক্তির পেছনে ছুটছি আর ভবিষ্যতে পৌঁছে যাবো মহাকাশের আরো গভীরে।


কিন্তু আমাদের রয়েছে একটিই সীমাবদ্ধতা, বলতে পারেন সকল প্রাণীকূলের একটিই ফ্যাক্ট—”প্রত্যেকটি জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হয়”। অর্থাৎ আমরা মরে যাই, আর আমরা মৃত্যুকে আটকাতে সক্ষম নয়। মৃত্যুকে ঠেকানোর কথা বাদ দিয়ে চলুন বিষয়টিকে আরেকভাবে ভাবা যাক। আচ্ছা বলুন তো কেমন হয়, যদি আপনার ব্রেইনের সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করা যায় এবং সেটিকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত করা যায় এবং পরে এই সমস্থ ডাটা কোন আর্টিফিশিয়াল বডিতে প্রবেশ করানো যায়? হ্যাঁ প্রসেসটা অনেকটা এই রকম “কোন কম্পিউটারে কোন পেনড্রাইভ থেকে সমস্থ ডাটা কপি করে রাখলেন এবং পরে প্রয়োজন অনুসারে সেই ডাটা গুলোকে সংরক্ষন বা অন্য কোন মিডিয়াতে ডাউনলোড করে দিলেন”। তবে মানুষের চেতনা কি কম্পিউটারে আপলোড করা সম্ভব? জি হ্যাঁ, এমনি কিছু ক্রেজি ধারণা নিয়ে মাইন্ড আপলোডিং (Mind Uploaing) প্রযুক্তির উপর কাজ করা হচ্ছে। এমনকি স্যার স্টিফেন হকিং এর মতে ২০৪৫ সালের মধ্যেই আমরা এই প্রযুক্তি ব্যস্তবে দেখবে পাবো। তো চলুন অসাধারণ এই প্রযুক্তির সম্পর্কে সমস্থ কিছু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

মাইন্ড আপলোডিং | অমরত্ব

চিরকাল বেঁচে থাকা—মূলত এটিই এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য, তাই এই প্রযুক্তিকে অমরত্ব প্রযুক্তিও (Immortality Technology) বলা হয়।আমাদের দেহে কোটি প্রকারের কোষ রয়েছে। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই কোষ গুলো ধীরেধীরে নিজে নিজেই রিপেয়ার হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ফলে আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা আর আগের মতো থাকে না এবং বিভিন্ন রোগ ব্যাধি শরীরে বাসা বেঁধে নেয় এবং ধীরেধীরে আমরা মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হই। এখন মৃত্যুকে এড়াতে প্রয়োজন আর্টিফিশিয়াল কোষ (যে কোষ কখনোই বৃদ্ধ হবে না) তৈরি করা এবং আমাদের আসল কোষ পরিবর্তন করে আর্টিফিশিয়াল কোষ শরীরে প্ল্যান্ট করা—যেটা আরো জটিল প্রযুক্তি।
তবে বিজ্ঞানীরা অমরত্ব লাভ করার আরেক মাধ্যম খুঁজে নিয়েছে, তা হলো আমাদের ব্রেইনের রহস্য ভেদ করে সমস্ত ব্রেইনের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করে কম্পিউটারে আপলোড করে রাখা এবং কোন বডিতে সেই ব্রেইন ডাটা ডাউনলোড করে দেওয়া। সায়েন্স অনুসারে আমরা প্রত্যেকটি প্রাণী আমাদের মস্তিস্কেই বেঁচে থাকি। আমাদের অনুভূতি, বুদ্ধিমত্তা, মন, চেতনা ইত্যাদি সবকিছুই আমাদের মস্তিষ্কেই বাসা বেঁধে থাকে। সুতরাং যদি কোনভাবে কারো মস্তিষ্ক কপি করে নেওয়া সম্ভব হয় (যদিও এটা শুনতে উদ্ভট লাগে) তবে সে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে—কেনোনা এতে তার চালচলন, বুদ্ধি, অনুভূতি সবই সংরক্ষিত থাকবে, যেমনটা একটি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ ক্লোন করে আরেকটি সম্পূর্ণ আলাদা ফিজিক্যাল কম্পিউটারে লাগানোর পরেও মনে হয় আপনি একই কম্পিউটার ব্যবহার করছেন।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানিদের উদ্দেশ্য হলো অন্যকারো পারসোনালিটিকে একটি সম্পূর্ণ আলাদা বডিতে প্রবেশ করিয়ে তার ক্লোন হিসেবে তাকে বাচিয়ে রাখা—যে কিনা সম্পূর্ণ আগের ব্যক্তির হুবহু ভার্সনে কাজ করবে। কিন্তু বিরাট প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের ব্রেইনকে কি আমরা কম্পিউটারে আপলোড করতে পারবো, মানে মাইন্ড আপলোডিং বা মানুষের চেতনাকে ডিজিটাইজ করা কতটুকু সম্ভব? এই সমস্থ বিষয়টি সায়েন্স ফিকশন বা কোন হলিউড মুভির মতো মনে হলেও বর্তমানে এই প্রযুক্তিকে সফল করার লক্ষ্যে ২০৪৫ ইনিশিয়েটিভ নামে একটি প্রোজেক্ট চলছে এবং বিজ্ঞানীরা মনে করেন ২০৪৫ সালের মধ্যেই আমরা সফলভাবে অমরত্ব প্রযুক্তি হাসিল করে নেব। কিন্তু সর্বপ্রথম আমাদের কি করতে হবে? আমাদের সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের ব্যাকআপ তৈরি করতে হবে! কিন্তু কীভাবে বা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটি সম্ভব হবে? কেনোনা কম্পিউটার এবং আমাদের ব্রেইন সম্পূর্ণ আলাদা সিস্টেমে কাজ করে। তাহলে কীভাবে সম্ভব?

মানুষের মস্তিষ্ক এবং চেতনা

মানুষের মস্তিষ্ক এবং এর কাজ করার ধরন সত্যিই এই দুনিয়ার মধ্যে অত্যন্ত আশ্চর্যকর জিনিষ গুলোর মধ্যে একটি। আমাদের মাথায় কোন ইউএসবি পোর্ট নেই যে, এতে আপনি ক্যাবল লাগাবেন এবং সকল ডাটা কম্পিউটারে ট্র্যান্সফার করে নেবেন। আবার আপনার মস্তিষ্ক এবং কম্পিউটারের কাজ করার সিস্টেম সম্পূর্ণ আলাদা। আপনার মস্তিষ্ক অবশ্যই ডিজিটাল ফরম্যাটে কাজ করে না, তাই মস্তিস্কর সকল তথ্য কম্পিউটারের কাছে মিনিং লেস। তখনই কেবল কোন ডাটা কম্পিউটারে সংরক্ষিত রাখা সম্ভব যখন সেটিকে ডিজিটাইজ করা হবে। কিন্তু মস্তিষ্ককে কীভাবে ডিজিটাইজ করা সম্ভব? এটি কোন সার্কিট বা ইলেক্ট্রনিক চিপ নয়—বরং এতে রয়েছে অনুভূতি, চেতনা ইত্যাদি আর এই সমস্ত কিছু একত্রে জীবন্ত এবং গরম ব্যায়োলজিক্যাল একটি অঙ্গে বদ্ধ রয়েছে, যা আমাদের মাথার ঘিলু নামে পরিচিত।
আপনার দেহে মস্তিষ্ক এমন একটি উপাদান যা আপনার মানুষ হওয়ার অস্তিত্বকে বহন করছে এবং আপনাকে প্রতিনিয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছে আপনি মানুষ এবং আপনি কি কি করতে পারেন। মানুষের মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়নের (তবে ৫০ বিলিয়ন থেকে ৫০০ বিলিয়ন পর্যন্ত থাকতে পারে) মতো অতিক্ষুদ্র কোষ থাকে—যাকে নিউরন বলা হয় এবং প্রত্যেকটি নিউরন একে অপরের সাথে কানেক্টেড রয়েছে। এই নিউরন গুলোর প্যাটার্ন এবং একে অপরের সাথে কানেক্টেড থাকার সিস্টেমের উপর নির্ভর করে আপনার কোন তথ্যকে প্রসেস করা। এই পদ্ধতির উপর আপনার মেধা, চেতনা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি সবকিছুই নির্ভর করে। কোন তথ্য প্রসেস হওয়ার সময় সেটি বিভিন্ন নিউরন হয়ে অতিক্রান্ত করে এবং আপনাকে একটি শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে—ঠিক যেভাবে নিউরাল নেটওয়ার্কে কাজ করানো হয়।

মাইন্ড আপলোডিং কীভাবে কাজ করে?

আগেই বলেছি, আমাদের মস্তিষ্ক অনেক কমপ্লেক্স একটি জিনিষ এবং এর চাইতেও কমপ্লেক্স ব্যাপার হলো আমাদের ইমোশন। মানুষের ইমোশন কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিটেক্ট করা এতোটা সহজ ব্যাপার নয়। যদিও বর্তমানে বিভিন্নভাবে মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যান করা এবং কম্পিউটারকে বোঝানোর অনেক প্রযুক্তি রয়েছে। একটি প্রযুক্তিতে মানুষের মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের ধারার উপর নির্ভর করে একটি থ্রিডি ইমেজ তৈরি করা হয় এবং একটি কম্পিউটারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে যে, সে এই থ্রিডি ইমেজ থেকে ডিটেক্ট করতে পারে যে মানুষটি এই মুহূর্তে ঠিক কোন জিনিসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মস্তিষ্কটি কি অনুভব করছে এটি ডিটেক্ট করা এতোটা সহজ কাজ নয়।

যাই হোক, কোন মস্তিষ্ক ডিজিটাইজ বা কপি করার জন্য প্রয়োজন পড়বে মস্তিষ্কটির সম্পূর্ণ ম্যাপ, যেটিকে ব্রেইন ম্যাপ বলতে পারেন। যেখানে বর্ণিত থাকবে প্রত্যেকটি নিউরন একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্ক যুক্ত রয়েছে এবং কীভাবে কাজ করছে বা একে অপরের সাথে সিগন্যাল আদান প্রদান করছে। কিন্তু এখানে ভুলে গেলে চলবে না যে আমাদের মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়নের মতো নিউরন রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এবং তাত্ত্বিকভাবে দেখতে গেলে মানুষের ব্রেইন ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা কেঁচোর ব্রেইন ম্যাপ থেকে রোবট বানাতে সক্ষম হয়েছে। তারা কেঁচোর ব্রেইনের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করে কম্পিউটারে আপলোড করে সেই ডাটাকে রোবটে ডাউনলোড করে দিয়েছে, ফলে একটি রোবট সম্পূর্ণ কেঁচোর ব্রেইনে কাজ করছে। মস্তিষ্ক ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যালের উপর কাজ করে আর এই সিগন্যাল গুলোকে একত্রিত করে ডিজিটাল ফরম্যাটে পরিণত করা সম্ভব—যাতে মাইন্ড আপলোডিং বা মস্তিষ্ককে কম্পিউটারে আপলোড করা যায়। কেঁচোর মস্তিষ্কে ৩০২টি নিউরন থাকে এবং প্রত্যেকের মধ্যে ৭,০০০ নিউরন ইন্টারকানেকশন থাকে। বিজ্ঞানীরা এই নিউরন গুলোর একটি নিখুদ মডেল তৈরি করে এবং এর নিউরাল নেটওয়ার্ক গঠনের উপর ভিত্তি করে একটি রোবট বানাতে সক্ষম হন। “the Lego worm robot” লিখে গুগল করলে এই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তাত্ত্বিকভাবে, এই একই প্রসেস ব্যবহার করে মানুষের মস্তিষ্কও ম্যাপ করা এবং সেখান থেকে ডাটা ডিজিটাইজ করে কম্পিউটারে আপলোড করা সম্ভব। কিন্তু মানুষের মস্তিকের ক্ষেত্রে আরো অধিক আঁকার নিয়ে কাজ করতে হবে—১০০ বিলিয়ন নিউরন এবং এদের মধ্যেকার ১০০ ট্রিলিয়ন কানেকশন। তবে এতো সুবিশাল পরিমান নিয়ে কাজ করাটা সত্যিই অনেক কমপ্লেক্স।
একবার ব্রেইন ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব হয়ে গেলে প্রয়োজন পড়বে আরেকটি হুবহু আর্টিফিশিয়াল ব্রেইন তৈরি করার। যেখানে ১০০ বিলিয়ন আর্টিফিশিয়াল নিউরন তৈরি করতে হবে এবং এক একটির সাথে কোটির কানেকশন নিশ্চিত করতে হবে। তারপরে আমাদের জানতে হবে যে, কীভাবে মস্তিষ্কে নতুন স্মৃতি রাইট হয় এবং কিভাবে কোন মেমোরিকে ইরেজ বা ডিলিট করা যেতে পারে। এর পরে আমরা মস্তিষ্কে ফলস (False) মেমোরি রাইট করতে পারবো।
তো এখন ধরুন আমরা মস্তিষ্ক রীড এবং রাইট করার ক্ষমতা পেয়ে গেলাম, তাহলে নেক্সট স্টেপ কি হবে? এখন কাজ হলো জাস্ট একটি ব্রেইন থেকে আরেকটি ব্রেইনে সমস্ত ডাটা গুলোকে কপি করা। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক বা যেকোনো মস্তিষ্ক আর কম্পিউটার হার্ডড্রাইভ এক জিনিষ নয়। বিজ্ঞানিদের মতে আমাদের মস্তিকের সমস্ত মেমোরি প্রায় ২.৬ মিলিয়ন গিগাবাইটের সমান। এতো বিশাল পরিমানের ডাটা ট্র্যান্সফার করাও এক বিশাল মাথা ব্যাথা। ইউএসবি ৩.০ কানেকশনে এই পরিমান ডাটা কপি হতে লাগাতার ৮০ দিনের উপর প্রয়োজন এবং থান্ডারবোল্ড ৩ কানেকশনে সপ্তাহর উপর সময় লেগে যাবে। আবার শুধু ডাটা প্ল্যান্ট করে দিলেই হবে না, মস্তিষ্কের প্রপার ম্যাপ লাগবে, যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি নিউরন দ্বারা সেই ডাটা গুলোকে প্রসেস করা সম্ভব হয়।

সুবিধা

এতক্ষণে নিশ্চয় আন্দাজ করতে পেড়েছেন যে এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে এবং আমরা এই প্রযুক্তি থেকে আর কতটা দূরে। এবার চলুন ভেবে দেখা যাক সেই দুনিয়ার কথা বা ২০৫০ সালের কথা যেখানে আমাদের কাছে মাইন্ড আপলোডিং প্রযুক্তি বা ইমর্টালিটি প্রযুক্তি ব্যাস্তবে থাকবে। এথেকে আমরা কি সুবিধা গুলো পাবো? এই প্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করা যতোটা ক্রেজি এই প্রযুক্তি ব্যস্তবে আসার পরে কি কি হতে পারে সেটা কল্পনা করা আরো দ্বিগুণ ক্রেজি। একে তো আপনার পারসোনালিটি কখনোই মরবে না, অর্থাৎ আপনার ব্যায়োলজিক্যাল বডি মরে গেলেও আপনার আর্টিফিশিয়াল বডি বেঁচে থাকবে অমর হয়ে। সেখানে হুবহু আপনার ফিলিংস থাকবে, আপনার বুদ্ধিমত্তা থাকবে এবং আপনার সকল চেতনা থাকবে। হাজার বছরের পরের সভ্যতাকেও আপনি দেখতে পারবেন। হতে পারে অন্য মস্তিষ্ক থেকে ডাটা কপি করে আপনার ইন্টেলিজেন্স লেভেলকে আরো বাড়ানো যেতে পারে। আপনার মস্তিস্ক থেকে সকল অস্থিরতা দূর করে আপনাকে হ্যাপি লাইফ প্রদান করা যেতে পারে। এতো শুধু শুরুর দিকের কল্পনা, পৃথিবীর উপর যখন এর প্রভাব নিয়ে ভাববেন সেটা এক অফুরন্ত কল্পনা হবে যেটা এই ছোট আর্টিকেলে বর্ণনা করা সম্ভব হবে না।

শেষ কথা

মাইন্ড আপলোডিং প্রযুক্তির উপর অনেক ইউনিভার্সিটি, অনেক বিজ্ঞানী, দেশের সরকার ইত্যাদি কাজ করছে এবং অলরেডি এই প্রজেক্টের উপর কোটি ডলার খরচ হয়ে গেছে। বিজ্ঞানিদের আশানুরূপ ফল পাওয়া গেলে সৌভাগ্যবশত আপনি আমি বেঁচে থাকতেই এই প্রযুক্তি দেখতে পাব। তো আপনার কি মনে হয়, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তিকে ব্যস্তব রুপ প্রদান করা সম্ভব হবে? আপনি যদি অমর হোন তো কি করবেন? আজকের এই ক্রেজি আর্টিকেলের উপর আপনাদের সকলের ক্রেজি সব টিউমেন্ট কামনা করছি। নিচের টিউমেন্ট সেকশনে যান এবং এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের সকলের সাথে বর্ণিত করুন।

————————–— بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ————————–—
সুপ্রিয় কমিউনিটি, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল নিয়ে আমার আজকের টিউন।সামাজিক যোগাযোগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্লাটফর্ম ফেসবুক বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও মুলত ২০০৬ সালের পর থেকে ফেসবুক এক বিশাল কমিউনিটির রূপ নেয়।
ফেসবুককে আমার কাছে ছোটবেলায় খেলা নোকিয়া ফোনের স্ন্যাক গেইমটার মতো মনে হয়। কারন এটি একের পর এক মানুষদের সংযুক্ত করছে আর আকারে বড় হচ্ছে। বর্তমান সময়ে এটা এমন এক অবস্থায় দাড়িয়েছে যে, কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলে তাকে এলিয়েনদের কাতারে ফেলা হয়। কারন হিসাবে একটি উদাহরণ দিচ্ছি, কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম এক ভাইয়া তার নবজাতকের জন্য একটি আইডি খুলে ফেলেছে। তার সন্তান যখন বড় হবে তখন নাকি সে এই আইডি ব্যবহার করবে। এই বিষয়টা থেকে আপনারা হয়তো বুঝে গেছেন যে ফেসবুক আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা ঘটনার সাথে কীভাবে জড়িয়ে গেছে। তবে প্রচার প্রসার এবং ব্যবহারে এগিয়ে থাকার কারনে স্বভাবতই কিছু প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, সেটা হলো এটা আমাদের জীবনের জন্য কতোটা উপকারী? সাম্প্রতিক গবেষণায় যে উত্তরগুলো বের হয়ে আসছে আজ সেগুলো নিয়েই আমার সব আয়োজন।

ফেসবুক উচ্চমাত্রার আসক্তি সৃষ্টিকারী সামাজিক সাইট

এই টিউনটি যারা পড়ছেন তাদের মাঝেও অনেকেই ফেসবুকের চরম মাত্রায় আসক্ত রয়েছেন। আর যে কোন কিছুর প্রতি অতিরিক্ত মাত্রায় আসক্তি থাকাটা একটি সামাজিক ব্যাধি হিসাবে ধরা হয়। এবং এই আসক্তির মাত্রা খুব বেশি হলে যেকোন ধরনের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। আপনি ফেসবুকের প্রতি আসক্ত কিনা সেটা প্রমাণ করার জন্য কয়েকটি প্যারামিটার রয়েছে। আপনি নিজে মিলিয়ে নিন আপনার সাথে কোনগুলো মিলে যায়। তবে সেগুলো আপনার সাথে মিলে যাবে সেগুলো টিউমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না যেন।

ফেসবুক আসক্তির প্যারামিটার-

  • ফেসবুকে ছাড়া আপনি এক মূহুর্ত চলতে পারেন না। যেকোন ঘটনা ফেসবুকে শেয়ার করতে মন চায়।
  • দিনে একাধিকবার ছবি কিংবা স্ট্যাটাস আপডেট করেন।
  • কোন স্ট্যাটাস আপডেট করার পর মিনিটে মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা।
  • স্ট্যাটাসে লাইক কিংবা টিউমেন্টের জন্য মরিয়া হয়ে থাকেন। অটোলাইক অটো টিউমেন্টের পেছনে সময় শ্রম ব্যয় করেন।
  • আপনার এক বা একাধিকবার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং এসময় আপনি নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। কারন যারা ফেসবুক নিয়ে বেশি টেনশন করে তাদের অ্যাকাউন্ট বেশি পরিমাণে হ্যাক হয়।
  • উপরের প্যারামিটারগুলো দেখার পরে যদি আপনার মেজাজ খারাপ হয় তাহলেও আপনি ফেসবুকের প্রতি চরম মাত্রায় আসক্ত। কারন সত্য কথা সব সময় নাকি তিতা লাগে।
  • এই লক্ষণগুলো যদি আপনার মাঝে থেকে থাকে তাহলে আপনি খুব শীঘ্রই মানুষিক এবং সামাজিক বিপর্যয়ের মাঝে পড়ে যাবেন। সুতরাং ফেসবুক থেকে সাময়িক দুরত্ব বজায় রেখে আসক্তি কমানোই শ্রেয়।

ফেসবুক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আপনার চিন্তাশক্তি নিয়ন্ত্রন করে

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৭ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর উপর গবেষণায় দেখা গেছে যদি তাদের টাইমলাইনে ইতিবাচক কোন বিষয় থাকে তাহলে তাদের চিন্তাভাবনাও ইতিবাচক হয়। অন্যদিকে নেতিবাচক বিষয়গুলোও তাদের চিন্তাভাবনাগুলো নেতিবাচক করে দেয়। তবে গবেষণার ফলাফল যায় আসুক সেটা কিন্তু বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। আসল কথা হলো ফেসবুক চাইলেই আমাদের চিন্তাশক্তি তাদের নিজেদের মতো করে তৈরী করতে পারছে। আমরা বিভিন্ন পেইজ, অন্যদের টাইমলাইন ইত্যাদি দ্বারা ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছি। আমাদের চিন্তার জগত ফেসবুকের সাথে মিলে যাচ্ছে। ফেসবুকের যেকোন বিষয়কে আমরা আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলছি। ফলে অনেক মিথ্যা সংবাদ এবং তথ্য নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছি। এবং সেই আমাদের চিন্তার জগতকে পরিবর্তন করে ফেলছি। ইন্টারনেট ডট অর্গের বিরুদ্ধে প্রচারণাগুলোও কিন্তু একই কারনে হয়েছে। কারন এক্ষেত্রে আমরা কোন কোন কন্টেন্ট দেখবো সেটা আগে থেকেই নির্ধারণ করা। অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহার আমাদের নিজেদের রিমোট কন্ট্রোলিং সিস্টেম তৈরী করে। কারন চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে ব্যক্তির স্বাধীনতা মূল্যহীন।

ফেসবুক হলো নতুন খেলার মাঠ

ফেসবুক বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এমন এক জায়গায় দাড় করিয়েছে যে, ফেসবুকের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি আমরা বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে শুরু করেছি। আগে বিকাল হলে আমরা দলবেধে খেলতে যেতাম। ঘুরাঘুরি আড্ডা সব কিছুই হতো। কোন বন্ধুর কাছে প্রয়োজন হলে তার বাসায় গিয়ে একবার ঘুরে আসতাম। আর এখন প্রয়োজন হলে ফেসবুকে চ্যাট এর মাধ্যমেই সব কিছু করা হয়। ফেসবুকে আছে নানা রকম মজাদার গেইম। দিনে প্রায় ১০-৫০ টি গেইম রিকোয়েস্ট বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পেতে হচ্ছে। আমরা ফেসবুক গেইমের উপর এতোটাই আসক্ত যে, যেকোন কথা ফেসবুকিও নিরিখে চিন্তা করি। যেমন, বিকাল বেলা শুয়ে শুয়ে আপনি হয়তো গেইম খেলছেন। এমন সময় আম্মু এসে বললো যে, এখনো শুয়ে শুয়ে কী করছো? যাও বায়রে গিয়ে খেলো। আপনি বাধ্য ছেলের মতো মোবাইল বা ল্যাপটপটা বায়রে এনে গেইম খেলা শুরু করলেন! কিন্তু ভেবে বলেন তো আম্মু কি আসলে এটাই করতে বলছিলো? অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, ফেসবুকে গেইম খেললে সমস্যা কী? পরিমিত মাত্রায় গেইম খেললে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু অনলাইনে গেইম খেললে প্রতিযোগিটা একটু অন্য রকম থাকে। সব সময় নতুন স্কোর করার চিন্তা আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে। ফলে ক্লাসরুম, রিডিংরুম এমনকি মসজিদ মন্দিরে ইবাদত করতে গিয়েও পোলাপাইনদের গেইম খেলতে দেখা যায়।


ফেসবুক মনে করিয়ে দেয় আমাদের কি নেই!

ফেসবুকে অনেক সময় দেখা যায়, আপনি কি সিঙ্গেল? তাহলে আপনার নিউজ ফীডে দারুন সব রিলেশনশীপ তথ্য জানতে পারবেন অমুক পেইজ থেকে। আসলে ফেসবুক সবার জন্য এক উন্মুক্ত জায়গা। এখানে প্রত্যেকটি স্টেইজের মানুষের সমাগম রয়েছে। আপনি নিউজ ফীডে দেখলেন চমৎকার সব হ্যাপি কাপলদের ছবি অথবা তাদের বিষয়ে মজার সব তথ্য। অথবা দেখে ফেললেন প্রেম করার উপকারীতা বিষয়ে কিছু ট্পিস। আপনার মনের ভেতরে তখন সহজাত প্রবৃতির কারনে আপনা আপনি একটা হাহাকার কাজ করবে। আপনি হয়তো খেয়াল করে দেখেন অনেকেই ফেসবুকে হৃদয় বিদারক স্ট্যাটাস আপডেট করে। এগুলো শুধুমাত্র আমাদের আবেগের বেহুদা প্রকাশ। এগুলো দ্বারা সামাজিক ভাবে কোন উপকার না হলেও মানুষিক দিক থেকে ঠিকই আমরা আমাদের অভাবটুকু বুঝতে পারি।


ফেসবুকই অনেকের কাছে ইন্টারনেট

আজকাল ইন্টারনেট বলতে অনেকেই ফেসবুকের বায়রে চিন্তা করতে পারেনা। বন্ধু বান্ধব অনেকেই গল্প করে বলে, আমি সারাদিন ইন্টারনেটে থাকি। আসলে দেখবেন তারা সারাদিন ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে। ফেসবুকে অতি মাত্রায় আসক্তির কারনে ইন্টারনেট এর সঠিক ব্যবহার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ফেসবুকের অন্য একটি ব্যাপার হলো ফেসবুকে অ্যানোনিমাস ব্রাউজিং সাপোর্ট করেনা। ফলে আমরা যে কারো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করার সুযোগ পাচ্ছি। ফলে ইন্টারনেটে সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি অসামাজিক কাজেও জড়িয়ে পড়ছি।


ফেসবুক আমাদের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে

ফেসবুক বিষয়ে সবচেয়ে বড় কথা হলো ফেসবুক আপনার মোড কে পরিবর্তন করতে পারেনা। শুধু সেটার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি যদি কখনো মন খারাপ নিয়ে ফেসবুকে বসেন তাহলে দেখবেন বিভিন্ন জনের মন খারাপ করা স্ট্যাটাসগুলো আপনার মন আরও খারাপ করে দিচ্ছে। তাছাড়া আমাদের অনেকের মাঝে মানুষিকতার সাদৃশ্য থাকার কারনে কখনো কারও মন খারাপ স্ট্যাটাস আমাদের মনকে আরও খারাপ করে দিচ্ছে। ফেসবুকে বানানো কোন ঘটনা যদি আপনার জীবনের সাথে আংশিক মিলে যায় তাহলে সেই ঘটনার শেষটুকুর সাথে নিজেকে মিলাতে শুরু করেন। আজকাল মানুষের মাঝে হতাশা, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং কর্মের দৃঢ়তার যে ঘাটতি দেখা যায় তার মূল কিন্তু অনেকাংশ ফেসবুক। আপনি ফেসবুকে লগিন থাকা অবস্থায় কোন কাজ করলে দেখবেন সময় এবং শ্রম প্রায় ৩গুন বেশি লাগে। আর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো লগআউট অপশনে ক্লিক করা।


আজকের এই টিউনটার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু আপনাদের ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা না। বরং ফেসবুক ব্যবহারে আরও একটু সতর্ক করা। জীবনের প্রয়োজনে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করি। কিন্তু সেই প্রযুক্তির কারনে আমাদের জীবন যাত্রা বাধাগ্রস্থ হলে সেটা সত্যিই হতাশার। আশা করবো সামনের দিনগুলোতে আপনারা ফেসবুকের স্বল্প ব্যবহার করবেন। কারন, প্রত্যেক জিনিসই ততোক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকে যতোক্ষণ পর্যন্ত না সেটার অতিরিক্ত ব্যবহার না করা হয়। তবে শেষ করার আগে একটা মজার জিনিস বলি, আপনারা গুগলে Facebook Addiction লিখে ইমেজ সার্চ করে একবার দেখতে পারেন। এত্তো মজার সব ছবি আসে যে, সেগুলো দেখে হাসতে হাসতে আমি অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। আপনাদের জন্য সেখান থেকে কয়েকটি তুলে দিলাম। এতোগুলো তিক্ত কথার মাঝে কিছুটা আনন্দ দেওয়ার এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই জানাবেন।
  • যখন আমরা পড়তে বসি তখন ফেসবুক যে ভুমিকা পালন করে!

  • গোপন কিংবা প্রকাশ্য যেকোন কিছু যারা ফেসবুকে শেয়ার করে থাকতে পারে না। 

  • জীবনের সব আনন্দময় মূহুর্ত যাদের ফেইসবুক ঘিরে আবর্তিত হয়!

  • ঘটনার গুরুত্বের চাইতে যখন ফেইসবুকে শেয়ার করাটা বেশি প্রাধান্য পায়!


  • ফেইসবুক আসক্তরা যদি কোনদিন ফেইসবুক ছেড়ে বাস্তব জগতে চলে আসে...


  • আমরা প্রতিদিন কিছু ফেইসবুক পাগল দ্বারা যে ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হই।

  • বাংলা ডায়লগগুলো ঘটনা অনুসারে সংযোজন করলাম। জানিনা কেমন হয়েছে, তবে টিউনের কন্টেন্টগুলো নিজের প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।

শেষ কথা

টিউনটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে অথবা বুঝতে যদি কোন রকম সমস্যা হয় তাহলে আমাকে টিউমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। কারন আপনাদের যেকোন মতামত আমাকে সংশোধিত হতে এবং আরো ভালো মানের টিউন করতে উৎসাহিত করবে। সর্বশেষ যে কথাটি বলবো সেটা হলো, আসুন আমরা কপি পেস্ট করা বর্জন করি এবং অপরকেও কপি পেস্ট টিউন করতে নিরুৎসাহিত করি। সবার সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। দেখা হবে আগামী টিউনে।

বাইক কিনেছেন, কিন্তু জ্বালানি বা তেল হিসেবে কি ব্যবহার করবেন পেট্রোল নাকি অকটেন। এই সমস্যায় পড়েননি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। অনেকেই আবার পেট্রোল ও অকটেন দুটোই একসাথে মিশিয়ে বাইকে ব্যবহার করেন। অনেকেই অনেক কথা বলেন, কেউ বলেন পেট্রোল ভালো, আবার অনেকেই বলেন পেট্রোলের চেয়ে অকটেন অনেক ভালো। আসলে কোন জ্বালানি ইঞ্জিনের জন্য ভালো এটা নিয়ে অনেককেই দ্বিধাদন্দ্বে ভোগেন। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সকল বাইক পাওয়া যায় তার প্রায় সবগুলোই ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন, যার একমাত্র জ্বালানি পেট্রোল বা অকটেন। আজ আমরা জানবো আমাদের বাইকটির জন্য কোন জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত।
বিশুদ্ধ জ্বালানি আপনার মটরসাইকেল ইঞ্জিনের জন্য যেমন জরুরী তেমনি দীর্ঘস্থায়ী পারফর্মেন্স ও বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য এটি অনেক কার্যকর। কিন্তু আমরা যে জ্বালানি আমাদের বাইকে ব্যবহার করি তা আসলে কতটুকু বিশুদ্ধ এই প্রশ্নের জন্যই আসে আমাদের বাইকটির জন্য কোন জ্বালানি ব্যবহার ভালো হয়।
আমরা পেট্রোল বা অকটেন নামে যে জ্বালানি কে চিনি, উত্তর আমেরিকায় তা গ্যাসোলিন নামে পরিচিত। আমরা মনে করি যে পেট্রোল ও অকটেন দুটি দুই ধরনের জ্বালানি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পেট্রোল ও অকটেন দুটি একই জ্বালানি এবং এদের রাসায়নিক গঠনও একই(C8H18 )। আন্তজার্তিকভাবে গ্যাসোলিন বা অকটেনকে একটি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এই নাম্বারকে RON নাম্বার বলে। RON নাম্বার দ্বারা গ্যাসোলিনের কোয়ালিটি পরিমাপ করা হয়। যেমন পেট্রোলের RON নাম্বার হলো 86  এবং অকটেন এর RON নাম্বার হলো 91।  RON  হলো “Research Octane Number” এর সংক্ষিপ্ত রুপ।
RON  নম্বর 86 বা এর চেয়ে বেশী হলে তখন তাকে ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ধরা হয়। ইঞ্জিনের কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি, বুস্টিং, বুস্টিং ক্যাপাসিটি এর উপর নির্ভর করে RON নাম্বার নির্ধারন করা হয়। বিদেশের পাম্পগুলোতে RON নাম্বার উল্ল্যেখ করা থাকে এবং তারা তাদের ইঞ্জিনের জন্য ইচ্ছে মত RON নাম্বার ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই ব্যাবস্থা না থাকায় আমরা জ্বালানি কে পেট্রোল ও অকটেন হিসেবে চিনি।আমি আগেই বলেছি যে সকল গ্যাসোলিন বা অকটেনের RON নাম্বার 86 সেগুলো আমরা পেট্রোল হিসেবে চিনি। এবার আসি আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে কোনটি আমাদের বাইকের সাস্থ্যের জন্য ভালো।

প্রথমে আসি পেট্রোলে, সাধারণত আন্তজার্তিক ভাবে অকটেন নাম্বার RON 86 থেকে পেট্রোল শুরু হয় বা এই জ্বালানি কে পেট্রোল বলে। তবে বাংলাদেশে যে সকল পেট্রোল পাওয়া যায় সেগুলোর RON নাম্বার পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে এগুলোর RON 80 যা আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত নয়। কিন্তু একটি দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে আমরা সাধারণত কোন ধরনের বাইক চালাচ্ছি বা আমাদের দেশে কোন ধরনের বাইক গুলোর চাহিদা বেশি। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে আমাদের দেশে 100 সি,সি মটরসাইকেল বেশি চলাচল করে বা 100 থেকে 125 সি,সি  মটরসাইকেল বেশি জনপ্রিয়। এই মটরসাইকেলগুলোর ক্ষেত্রে পেট্রোলের চেয়ে অকটেন ব্যবহার কতটা কার্যকরী তাও আমাদের ভাবতে হয় অন্যদিকে দেখতে হয় পেট্রোলের পরিবর্তে এই মটরসাইকেলগুলোতে কতটা সুফল পাওয়া যায়। সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় যে 100 থেকে 125 সি,সি-এর মধ্যে বাইক গুলোতে পেট্রোলের পরিবর্তে অকটেন তেমন সুবিধা দেয় না। এই বাইকগুলোতে আপনি নির্দ্বিধায় পেট্রোল ব্যবহার করতে পারেন। এই বাইকগুলো সিংগেল পিস্টন, সিংগেল সিলিন্ডার ও দুই ভাল্ব যুক্ত এবং মাঝে মাঝে আমাদের দেশে কিছু টু স্ট্রোক ইঞ্জিন দেখা যায়, যেই মটরসাইকেল গুলোর পারফর্মেন্স বাড়ানো যায় না। তাই এই মোটরসাইকেলগুলোতে পেট্রোল ব্যবহার ঠিক আছে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে পেট্রোলের সাথে অন্যকিছু মেশানো হয়েছে কিনা অর্থাৎ কোন ভেজাল মেশানো হয়েছে কিনা। বর্তমানে দেখা যায় বাজারে অনেক পেট্রোল পাওয়া যায় যেগুলোর সাথে কেরোসিন মেশানো থাকে। এই দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে। তাছাড়া এই বাইকগুলোর জন্য পেট্রোলই যথেষ্ট।
এবার আসি অকটেন এ, আমাদের দেশে সাধারণত যেসব 150 সি,সি বাইক আছে সেগুলোর কম্প্রেশন এর অনুপাত বেশি এবং দুটোর বেশি ভাল্ব থাকে। এই বাইকগুলোতে সাধারণত অকটেন ব্যবহার করা উচিত। এই বাইকগুলোর পারফর্মেন্স বাড়াতে এবং ভালো পারফর্মেন্স পেতে এই বাইকগুলোতে অকটেন বেশ উপযোগী। আরেকটা ব্যাপার হলো আমাদের দেশের ঋতুর পরিবর্তন। শীতকালে আমাদের দেশে অনেক বেশি ঠান্ডা পরে ফলে এসব বাইক স্টার্ট করতে অনেক সমস্যা হয় তাই এসব বাইকে অকটেন ব্যবহার করা হয়।
আমরা অনেককেই দেখি যে তারা পেট্রোলের সাথে অকটেন মিশিয়ে ব্যবহার করেন। অনেকেই মনে করেন যে এমনটি করলে হয়ত ইঞ্জিন ভালো থাকে। তারা অনেকেই জানেন না যে তারা কেন এমনটি করেন। সাধারণত দুটি ভিন্ন RON এর গ্যাসোলিন একসাথে মেশানো হয় যাতে একটি গড় RON নাম্বার পাওয়া যায়। ধরুন RON 80  গ্যাসলিন এর সাথে RON 95 এর গ্যাসোলিন মেশানো হলো তাহলে যে অনুপাত পাওয়া যায় তা হলো RON 87.5। এমনটি করা যেতে পারে যদি দুটি গ্যসোলিনেই একই বুস্টার, ডিটারজেন্ট ও এন্টিঅক্সিডেন্ট অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে গ্যাসোলিনে কি পরিমান অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয় আমরা জানি না এবং আদৌ অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয় কিনা তাও আমরা জানি না। তাই পেট্রোলের সাথে অকটেন মেশানো শুধু ক্ষতিকরই না অনেক অনিরাপদও বটে।
অনেক সময় অনেকেই বলেন, অকটেন ব্যবহারের ফলে তার বাইকের ইঞ্জিন গরম হয়ে যাচ্ছে। আসলে এমনটি হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার বাইকটি যদি 150 সি,সি’র কম হয় তাহলে আপনার শুধু পেট্রোল ব্যবহার করলেই চলবে, তবে অবশ্যই তা বিশুদ্ধ পেট্রোল হতে হবে। অন্যথায় ৫০% পেট্রোল ও ৫০% অকটেন মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটি শুধুমাত্র শীতকালের জন্য। তবে আপনার বাইকটি যদি 150 সি,সি হয়, তাহলে গরম ও ঠান্ডায় আপনি অকটেন ব্যবহার করতে পারেন। তবে 150 সি,সি’র নিচের বাইকগুলোতে যদি অকটেন ব্যবহারে বেশি গরম হয় তাহলে সেগুলোতে অকটেন ব্যবহার না করাই উত্তম। এ সকল বাইকে তাই ভেজাল মুক্ত পেট্রোল ব্যবহার করা উচিত।
আমাদের বাইকের জন্য অবশ্যই বিশুদ্ধ গ্যাসোলিন ব্যবহার করতে হবে। ভেজালযুক্ত গ্যাসোলিন আমাদের বাইকের ইঞ্জিনে সমস্যা করে, ভালো মাইলেজ পাওয়া যায় না এবং বাইকের ইঞ্জিন এ মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই আপনার পরিচিত পাম্প থেকে ভেজাল মুক্ত ও বিশুদ্ধ জ্বালানিকিনে ব্যবহার করুন, বাইকের ইঞ্জিনকে সুরক্ষা দিন।

আমরা সবাই জানি স্মার্টফোনের ব্যাটারিতে চার্জ না থাকা একটি বড় সমস্যা। চার্জ না থাকার ভয়ে গান শোনা বা ইন্টারনেট ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হয় অনেক সময়। তবে এখন থেকে আর এ নিয়ে চিন্তা নেই। কারণ অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ফিচার ব্যাটারির চার্জ বাঁচাবে!


জানেন কি?

আসলে কি কারণে বা কোন অ্যাপ ব্যাটারির চার্জ খাওয়ার জন্য দায়ি তা আমরা ঠিক মতো বুঝতেও পারি না। এই সমস্যার জন্য অ্যান্ড্রয়েডের নতুন অপারেটিং সিস্টেম একটি সমাধান নিয়ে আসতে চলেছে।
গুগল ১৭ মে শুরু হওয়া আই/ও ডেভেলপার সম্মেলনে বেশ কিছু ঘোষণার সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন অপারেটিং ‘ও’ এর বেশ কিছু ফিচারেরও ঘোষণা করা হয়। বর্তমান ব্যবহারকারিদের ফোনে যে ব্যাটারি মেনুটি রয়েছে সেটি আপনাকে ব্যাটারি সেভার মোডে টগল করতে ও প্রতি অ্যাপের পরিসংখ্যান দেখায়, তবে এটি আসলে কার্যকর নয়। এজন্যই নতুন সংস্করণটি আরও বেশি উপযোগী করা হচ্ছে যা ব্যাটারি মেনুতে অভিযোজিত উজ্জ্বলতা ও ব্যাটারি শতাংশ আইকন সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলি গ্রাহকদের প্রদর্শন করবে।
ম্যাশেবল বলেছে, এই ফিচারের সক্রিয় ব্যবহার, ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার ও প্রতিটি অ্যাপের ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেখা যাবে। আবার সে অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশনটি বন্ধ করে দিতে কিংবা আনইনস্টল করা যাবে। তাই নির্দিধায় বলা যায়, নতুন এই রিডিজাইন প্রতিষ্ঠানের ব্যাটারি লাইফে মনোযোগ দেওয়াকেই নির্দেশ করে থাকে। যে কারণে বিশ্বব্যাপী অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারিদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুগল এবার আনতে চলেছে নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘এন্ড্রয়েড গো’। এই ‘এন্ড্রয়েড গো’ সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্করণ হিসেবে বাজারে আসবে।



প্রতি বছরই গুগল তাদের বার্ষিক সম্মেলনে নতুন নতুন সব জিনিস নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া নতুন কি আসছে সেগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গুগল একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম আনার ঘোষণা দিয়েছে। এটি মূলত এন্ড্রয়েড এর মতোই, তবে একটু ভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। মূলত এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্করণ। এই নতুন সংস্করণটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এন্ড্রয়েড গো’।
জানেন কি?
 


জানানো হয়েছে, এটি মূলত বানানো হয়েছে কম দামি স্মার্টফোনের জন্য। কম দামি স্মার্টফোন সাধারণত কম স্পেসিফিকেশনের হয়ে থাকে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে র্যাম কম হলেও কোনো সমস্যা হবে না।
১ জিবি এর কম র্যাম এমন ফোনেও এটি ভালোভাবে চলতে পারবে। আবার অন্যদিকে এই অপারেটিং সিস্টেমে অ্যাপ সাইজও হবে কম। যে কারণে স্টোরেজও কম লাগবে। সে কারণে ‘এন্ড্রয়েড গো’ এর জন্য পৃথকভাবে ইউটিউব অ্যাপ ‘ইউটিউব গো’ বানানো হবে। এটি হবে ইউটিউবের লাইট ভার্সন। প্রাই সব অ্যাপই ১০ এমবি এর মধ্যে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
Powered by Blogger.